হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচলে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬ শর্ত দিল ইরান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচলে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬টি শর্ত দিয়েছে ইরান। মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস— আইআরজিসি। আছে নিষেধাজ্ঞা বাতিল আর অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের দাবিও। আইআরজিসির বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সবগুলো শর্ত পূরণ হলেই কেবল চালু হবে হরমুজ। তবে জলপথটি ঘিরে টোল বসানোর পরিকল্পনা নেই, তেহরানের কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মূলত, ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুদ্ধ বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা চলছেই। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধে তেহরানের ট্রাম্প কার্ডের জবাবে মার্কিন নৌ অবরোধ। সব মিলিয়ে এখনও অচলাবস্থায় হরমুজ।
এই প্রণালি ঘিরে বিকল্প একটি অস্থায়ী রুট তৈরিতে চুক্তির কাছাকাছি ইরান-ওমান। নিশ্চিত করেছে দুই পক্ষই। কিন্তু এটি সাময়িক বন্দোবস্ত বলেও জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য ছয়টি শর্ত বেধে দিয়েছে ইরান।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, 'হরমুজ প্রণালি চালুর সাথে ওমানের সাথে ইরানের আলোচনার সম্পর্ক নেই। বরং তা ইসলামিক রিপাবলিকের দেয়া শর্তের ওপর নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের শর্ত মানছে কিনা তার ভিত্তিতে হবে সিদ্ধান্ত।'এদিকে, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে আইআরজিসি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত, তেহরানের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ এবং ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিও রয়েছে তেহরানের ছয় দফা শর্তাবলীতে।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাঘের জোলকদর জানিয়েছেন, যুদ্ধ বা আলোচনা যাই হোক না কেনো, এসব দাবি থেকে পিছু হটবে না তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রকে আচরণ সংশোধনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর পরিকল্পনা নেই বলে তাকে নিশ্চিত করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। জলপথটি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলে, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক- সব ধরনের বিকল্প প্রয়োগের কথাও জানিয়েছেন ভ্যান্স।
এক নজরে ইরানের ৬ শর্ত:
- ইরান ও তার 'পবিত্র মূল্যবোধের' বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা।
- ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
- ইরানকে অবরোধে যুক্ত মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার করা।
- সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
- ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
- যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ও অর্থ মুক্ত করে দেওয়া।
এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান সংঘাত থেকে বের হওয়ার একটি ‘বিকল্প পথ’ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
/এমএইচআর