×
Logo

আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা দিতে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২১ দিনের সময় দিল পেন্টাগন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা দিতে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২১ দিনের সময় দিল পেন্টাগন

অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার জন্য ২১ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা দফতরের একটি স্মারকলিপির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত ও আগ্রাসী সরবরাহের সময়সূচি’ তৈরি এবং উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা ২১ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

তিনি আরও লিখেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নের প্রক্রিয়া আর গ্রহণযোগ্য নয়। এখনই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির সময়সূচি নাটকীয়ভাবে এগিয়ে আনতে হবে।

সম্প্রতি, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত নির্ভুল ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র—আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল। এ বিষয়ে তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের দাবি, এসব অস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি মজুত কতটা কমে গেছে, ট্রাম্প সে বিষয়ে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না বলেও খবর প্রকাশিত হয়।

তবে অস্ত্রের ঘাটতি এবং ট্রাম্প-হেগসেথের মধ্যে বিরোধ, দুই ধরনের প্রতিবেদনই জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ ‘অস্ত্র ও গোলাবারুদ’ রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও জানান, ট্রাম্প হেগসেথের ওপর ক্ষুব্ধ হননি। একই দিন পৃথক এক পোস্টে ট্রাম্প হেগসেথের কাজের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার কাজ নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত সন্তুষ্ট’।

একই সুরে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট কখনো পিটকে দায়ী করেননি। পুরো বিষয়টি তথ্য ফাঁসকারীদের নিয়ে।’

এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য অস্ত্রের ঘাটতি সম্পর্কে ট্রাম্প অবগত ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যখন শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনায় যেতে চায়, তখন এ ধরনের তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসায় তিনি হতাশ ছিলেন।

এদিকে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, জুলাইয়ে কয়েকটি বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দফতরের পরিচালক রাসেল ভট এবং হোয়াইট হাউসের লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর জেমস ব্রেইডের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়।

বৈঠকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সরাসরি লবিং করার জন্য শিল্পখাতের নেতাদের উৎসাহিত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে, কম খরচে গোলাবারুদ, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বাড়াতে বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানির সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি করেছে পেন্টাগন।

তবে এসব চুক্তি এখনো বাধ্যতামূলক নয়। কংগ্রেসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পরই এগুলো চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো বলেন, এগুলো মূলত চুক্তিতে যাওয়ার বিষয়ে সমঝোতা; চূড়ান্ত চুক্তি নয়। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত প্রায় কিছুই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়নি। আর এটাই মূল সমস্যা।

২০২৮ সালের বাজেটে প্রভাব পড়বে

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল স্টিভ ফেইনবার্গের স্মারকলিপির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্মারকলিপিতে দেওয়া নির্দেশনাগুলো ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে। ওই বাজেট কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হবে।

পারনেল বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্পের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা পুনর্গঠন ও উৎপাদন বাড়ানো তাদের স্পষ্ট লক্ষ্য।

/এআই 

Logo