অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ প্রকল্পে ৪শ’ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার একটি খনি প্রকল্পে ৪শ' মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের প্রথম প্রাথমিক স্ক্যান্ডিয়াম খনি নির্মাণে এই অর্থ দেওয়া হবে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অস্ট্রেলীয় খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালসকে ৪শ' মিলিয়ন ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খনি খাতের নির্বাহীদের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিফিল্ড এলাকায় প্রস্তাবিত এই খনি প্রকল্পের লক্ষ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য স্ক্যান্ডিয়ামের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, খনি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সানরাইজ এনার্জি মেটালসও জানিয়েছে, তাদের ‘সিয়ারস্টন স্ক্যান্ডিয়াম প্রজেক্ট’ পশ্চিমা বিশ্বে স্ক্যান্ডিয়াম সরবরাহের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং ৫জি ও ৬জি টেলিযোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে এই ধাতুর ব্যবহার রয়েছে।
স্ক্যান্ডিয়াম একটি বিরল ধাতু, যা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, উড়োজাহাজ এবং ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত অন্যান্য খনিজ উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে স্ক্যান্ডিয়াম পাওয়া যায়। ফলে এর সরবরাহ বাড়াতে আলাদা করে স্ক্যান্ডিয়াম উত্তোলনের প্রকল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালুমিনিয়ামকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিয়াম অত্যন্ত কার্যকর। একই সঙ্গে এটি হালকা, নমনীয় এবং উচ্চ তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে এর ব্যবহার বাড়ছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ স্ক্যান্ডিয়াম মজুত রয়েছে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য রয়েছে।
প্রতিরক্ষা পণ্যে ব্যবহৃত বিরল খনিজের রফতানিতে চীন বিধিনিষেধ আরোপ করার পর থেকেই বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধানে জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চাইছে ওয়াশিংটন।
এরই অংশ হিসেবে, গত অক্টোবরে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। চীনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মোকাবিলা এবং নিজেদের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দুই দেশই বিভিন্ন প্রকল্পে ১০ মিলিয়ন ডলার করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।
এর আগে, অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান সানরাইজ এনার্জি মেটালসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের একটি চুক্তিও হয়। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে উৎপাদন শুরু হলে প্রথম পাঁচ বছর স্ক্যান্ডিয়ামের মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ লকহিড মার্টিনকে সরবরাহ করবে সানরাইজ।
এদিকে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ব্যাটারি প্রকল্পে মোট ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্পনীতিকে আরও শক্তিশালী করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিরল খনিজের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
/এআই