×
Logo

আন্তর্জাতিক

হরমুজে ইরানের ফি নেওয়ার পরিকল্পনায় ফের বাড়লো তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

হরমুজে ইরানের ফি নেওয়ার পরিকল্পনায় ফের বাড়লো তেলের দাম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও জাহাজ চলাচলে ফি নেওয়ার পরিকল্পনার কারণে আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে আজ। খবর রয়টার্সের। 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ সেন্ট বা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৭৭ দশমিক ৭১ ডলারে ওঠে।

এর আগে, বৃহস্পতিবারও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ করতে ইরান একটি বিল পর্যালোচনা করছে— এমন খবরের পর বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হতো।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধানের আশা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম কমেছিল। ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই— দুই বেঞ্চমার্কই সপ্তাহ শেষে প্রায় ৮ শতাংশ দরপতনের পথে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক লিন ইয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের প্রকাশিত খসড়া পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়াতেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের বদলে শর্তসাপেক্ষ ও নিয়ন্ত্রিত করিডোর চালু হতে পারে, এমন আশঙ্কাই বাজারে প্রভাব ফেলছে।

এক ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহনের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। অন্যদিকে, ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ফি আরোপের পক্ষে নয়।

চারটি শিল্প খাতের সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্ত থাকায় প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।

এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা বৃহস্পতিবার মারিব ও হাদরামাউতে সৌদি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বা পে-রোলসের তথ্যের দিকে। শুক্রবার প্রকাশিত এই তথ্যের ওপর সুদের হার নিয়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে পারে। সুদের হার বাড়লে ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি তেলের চাহিদাতেও।

/এনএ 

Logo