×
Logo

আন্তর্জাতিক

কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানি নিষিদ্ধ করলো ডিআর কঙ্গো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানি নিষিদ্ধ করলো ডিআর কঙ্গো

খনিজ সম্পদের স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়ানো এবং দেশেই এসব সম্পদের বাড়তি মূল্য ধরে রাখতে কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি এক আদেশের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। 

রফতানি নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে কপারের দাম। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি কপারের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেট্রিক টন ১৪ হাজার ৩৬৯ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। গত ২৯ জানুয়ারির পর এটিই কপারের সর্বোচ্চ দাম। ওই দিন ধাতুটির দাম রেকর্ড ১৪ হাজার ৫২৭ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছিল। পরে গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৯টায় কপারের দাম ছিল ১৪ হাজার ৩০০ ডলার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোবাল্ট সরবরাহকারী এবং কপারসহ জ্বালানি রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খনিজের অন্যতম প্রধান উৎস ডিআর কঙ্গো। দেশটি নিজেদের খনি থেকে উত্তোলিত সম্পদের আরও বেশি অর্থনৈতিক মূল্য ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

গত ২৯ জুন জারি করা ওই আদেশে দেশটির খনিমন্ত্রী লুই কাবাম্বা ওয়াতুম, বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী জুলিয়েন পালুকু কাহোঙ্গিয়া এবং অর্থমন্ত্রী ড্যানিয়েল মোকোকো সাম্বা স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে, কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানি নিষিদ্ধ।

আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে কৌশলগত পরিস্থিতিতে এক বছরের জন্য রফতানির অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কোন পরিস্থিতিকে কৌশলগত হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ ছাড়া অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনি-উপজাত পণ্যের ওপর নতুন করব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যা কার্যকরে তিন মাসের সময় রাখা হয়েছে।

স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর

সরকারের আদেশে বলা হয়েছে, অধিক মূল্য সংযোজিত খনিজ পণ্য বাজারজাত ও রফতানিতে খনি পরিচালনাকারীদের উৎসাহিত করার প্রয়োজন থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৩, ২০১৯ ও ২০২৩ সালেও কপার ও কোবাল্ট কনসেনট্রেট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ডিআর কঙ্গো। তবে দেশীয় গলন সক্ষমতা পর্যাপ্ত না থাকায় সেসব ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

নতুন আদেশে ২০২৩ সালের আদেশ ও এর আওতায় দেওয়া ছাড় বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে খনিজ রফতানি এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনি-উপজাত পণ্যের ওপর কর আরোপের জন্য আরও বিস্তৃত কাঠামো চালু করা হয়েছে।

সাধারণত পরিশোধিত ধাতু হিসেবেই বেশিরভাগ কপার রফতানি করে ডিআর কঙ্গো। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭২৫ টন কপার ক্যাথোড রফতানি করেছে তারা। একই সময়ে ৫৩ হাজার ৯২৬ টন কপার কনসেনট্রেট রফতানি হয়েছে, যাতে কপার ধাতুর পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৬৩ টন।

এ ছাড়া একই সময়ে ৫১ হাজার ৯৪০ টন কোবাল্ট হাইড্রক্সাইড রফতানি করেছে দেশটি, যাতে কোবাল্ট ধাতুর পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৫৪ টন।

খনি বিশ্লেষক ক্রিশ্চিয়ান-জেরো নীমার মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিকাংশ খনি পরিচালনাকারীর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ডিআর কঙ্গোর কপার ও কোবাল্টের বড় অংশই ইতোমধ্যে দেশটির অভ্যন্তরে পরিশোধিত হয়।

তবে কঙ্গোর কপার ও কোবাল্ট খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প কামোয়া-কাকুলা এ নিষেধাজ্ঞায় তুলনামূলক বেশি প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মালিকানায় রয়েছে কানাডার ইভানহো মাইনস, চীনের জিজিন মাইনিং এবং ডিআর কঙ্গো সরকার। প্রকল্পটি এখনো কিছু কনসেনট্রেট রফতানি করে থাকে, যা আগে দেওয়া ছাড়ের আওতায় সম্ভব হচ্ছিল।

এ বিষয়ে ইভানহো মাইনস, জিজিন মাইনিং এবং কঙ্গোর চেম্বার অব মাইনসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশটির নতুন করব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খনিজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিশোধন প্রক্রিয়ায় পাওয়া অতি সামান্য ও ক্ষুদ্র পরিমাণের খনিজ উপাদানের ক্ষেত্রেও কর আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এসব উপ-পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ৫৫ শতাংশ মূল্যায়ন সহগ ব্যবহার করা হবে এবং মূল খনিজের ওপর আরোপিত রয়্যালটির পাশাপাশি এসব উপ-পণ্যের ওপরও রয়্যালটি দিতে হবে।

/এনএ 


Logo