×
Logo

আন্তর্জাতিক

নতুন মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

নতুন মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে ইরান। 

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) এই বিষয়ে অবগত পাঁচটি সূত্রের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

সূত্রগুলোর দাবি, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি, তুর্কি ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেন।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নতুন হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানান আরাঘচি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এক ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও তেলক্ষেত্রেও হামলা হতে পারে।

ইরানের এই হুঁশিয়ারির পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত, আলোচনায় ফিরে যাওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান বলে খবর সূত্রগুলোর। এছাড়া কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছে।

তবে সৌদি আরব একইসঙ্গে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ইরানের হুঁশিয়ারির পেছনে ২০১৯ সালের সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই হামলায় দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তেহরান মনে করছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরব মিত্রদের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর চাপ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট ট্রাম্প জানান, দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে তিনি রাজি হয়েছেন।

তবে আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি সমঝোতার অনাগ্রহ, যেটিকে ইরান নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে। ফলে তেহরানের সামনে এখন মূলত দুটি পথ— আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়িয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, অথবা এমন একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় যাওয়া, যা ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত ‘চূড়ান্ত বিজয়’ নিশ্চিত করবে না।

/এনএ 


Logo