×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় নিহত পরিবারের দাফন সম্পন্ন: আল জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় নিহত পরিবারের দাফন সম্পন্ন: আল জাজিরা

ইরানের কেশম দ্বীপে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়।

তাদের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মূল্য দিতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড় সমীকরণের আড়ালে থাকা নির্মম বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। হামলায় তিনজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের একজন শিশু। কোনো কৌশলগত বা ভূরাজনৈতিক ব্যাখ্যাই এই প্রাণহানির বাস্তবতাকে মুছে দিতে পারে না বলে দাবি করেন গালিবাফ।

কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালির মুখে অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ হরমুজ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ একই সঙ্গে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক মিত্র ও নিজ দেশের জনগণের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এমন একটি কৌশলগত এলাকায় সামরিক স্থাপনার বদলে কেশম দ্বীপকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি বেসামরিক প্রাণহানির খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই ঝুঁকি আরও গভীর হচ্ছে।

তবে হামলাটি নিয়ে এখনো গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। হামলার মূল লক্ষ্য কী ছিল, নিহত পরিবারটি কোনো সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি থাকার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে হামলার শিকার হয়েছে কি না, নাকি তাদের সরাসরি লক্ষ্য করা হয়েছিল—তা স্পষ্ট নয়। কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করেছে, সেই তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি।

এসব তথ্যের ঘাটতি থাকায় হামলার সামরিক কার্যকারিতা বা কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা কঠিন।

তবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সংঘাতের যে একটি পরিচিত ধারা তৈরি হয়, সেটি বিশ্লেষণ করা যায়। আর সেটি হলো, কোনো দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডে চালানো হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হলে তা খুব দ্রুতই রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। 

নিহতদের জানাজা ও দাফন তখন শুধু একটি পারিবারিক শোকের ঘটনা থাকে না; তা প্রতিশোধের দাবি, জনমত গঠন এবং সংঘাতের পক্ষে সমর্থন তৈরির হাতিয়ারও হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষকরে, একটি শিশুর মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতে মার্কিনবিরোধী ক্ষোভ আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে তা পাল্টা হামলার চাপও তৈরি করতে পারে। ফলে একটি সামরিক অভিযানে যে কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছিল, বেসামরিক প্রাণহানির কারণে তার চেয়েও বড় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মূল্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে, নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারের দাবি থাকলেও একটি হামলার পেছনে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমার খরচই থাকে না। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সামরিক পরিকল্পনা, সরবরাহব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো—সব মিলিয়ে একটি হামলায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

কিন্তু কেশম দ্বীপের এই হামলার পর দৃশ্যমান বাস্তবতা হলো—একটি পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের একজন শিশু। আর তাদের দাফনের দৃশ্য ইরানের গণমাধ্যম ও জনপরিসরে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন হামলা ও বেসামরিক প্রাণহানির প্রতীক হয়ে থাকতে পারে।

এ ধরনের প্রাণহানির প্রভাব শুধু নিহত পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপরও।

/এআই 

Logo