জুলাইয়ে ইরানের হামলায় শত শত মার্কিন সেনা নিহত এবং আহত হয়েছে: রেজাই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
ইরানের হামলায় জুলাই মাসজুড়ে শত শত মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকশ' সেনা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই। তবে ইরানের এই দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই এ দাবি করেন।
প্রেস টিভির বরাতে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত ও আহত মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৫০ জন হতাহতের কথা স্বীকার করেছে। তবে ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা প্রায় ৫শ'।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে, জর্ডান ও ইরাকে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে আরও ১৪ মার্কিন সেনা নিহত হন।
এছাড়া জুলাইয়ের শেষ দিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ৪১৭ জন মার্কিন সেনা আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বা বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে আরও ২০৭ জন সেনা আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
ফলে রেজাইয়ের দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত সামরিক পরিসংখ্যানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।
ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা কমানো এবং তেহরানকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস ধরে দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর সর্বশেষ দফার অভিযান শুরু হয় জুলাইয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় আরব মিত্র এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেও ইরানের পাল্টা হামলা বাড়তে থাকে।
বিশেষকরে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম তাদের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেশটিকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করাই তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন রেজাই।
তার দাবি, গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার কারণে দেশটির সামরিক ও অন্যান্য সম্পদ আগে থেকেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ছিল। এ কারণেই সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি জড়ায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রেজাইয়ের অভিযোগ, ইসরায়েলকে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পরিস্থিতিকে এক ধরনের ‘মুখোশ’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘জায়নবাদী শাসন’ যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চাপ দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন যুদ্ধ হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হোয়াইট হাউসে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারের সমর্থনে ইরানই নতুন করে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, মার্কিন হামলা চালানো হলে ইরান ‘আঘাতের শিকার হতে চায়নি’ বলেই আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী হয়েছে।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেন। ওই হামলা হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলায় পরিণত হতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সোমবারই ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং কোনো বৈঠকও নির্ধারিত হয়নি।
আগামী কয়েক দিনে ইরানে কোনো বিদেশি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা নেই বলেও জানান বাঘাই। একইভাবে ইরানও বিদেশে কোনো আলোচক বা প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না বলে জানান তিনি।
/এআই