×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ

দাবানল নেভাতে গ্রিসে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ; হাঙ্গেরিতে বন্ধ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

দাবানল নেভাতে গ্রিসে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ; হাঙ্গেরিতে বন্ধ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার মধ্যে ভয়াবহ দাবানলের পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গ্রিসে আগুন নেভানোর সময় দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, দানিউব নদীর পানির স্তর ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে যাওয়ায় চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করতে হয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

রোববার (২ আগস্ট) গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে অ্যাটিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, একটি হেলিকপ্টারের ক্রুরা নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। অপর হেলিকপ্টারটি শনাক্ত হওয়ার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

গ্রিসের উত্তর-পশ্চিমে এথেন্স থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে করিন্থ উপসাগরসংলগ্ন এলাকায় দাবানলে ইতোমধ্যে শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় মেগারা শহরের আশপাশসহ পশ্চিম অ্যাটিকার কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকটি বসতি খালি করা হয়েছে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস বলেন, প্রকৃতির ভয়াবহতা ও চরম আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি মানুষের পরিকল্পনা ও সক্ষমতার বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের জিরন্দ ও ভার অঞ্চলের দাবানল এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলের আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কিছু এলাকায় আগুন আবার জ্বলে ওঠায় দমকল বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

খরা ও পানির তীব্র সংকটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশও বিপাকে পড়েছে। দানিউব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে নৌপরিবহন, পর্যটন ও পানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সার্বিয়াতেও দানিউব নদীর পানি ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশটির বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক মাত্র ২০ শতাংশে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রেকর্ড তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

/এনএ 

Logo