সিউতায় অনুপ্রবেশের পর মরক্কোয় ফিরেছে অধিকাংশ অভিবাসী, নিহত বেড়ে ৬৭
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
স্পেনের ছিটমহল সিউতায় সাম্প্রতিক কয়েক দিনের গণঅনুপ্রবেশের পর সেখানে প্রবেশ করা প্রায় সব অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে স্পেন। এদিকে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সিউতায় প্রবেশ করা ‘প্রায় সবাই’ এখন মরক্কোয় ফিরে গেছেন।
স্প্যানিশ কর্মকর্তারা শনিবার (১ আগস্ট) জানান, সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মরক্কো সীমান্তের ওপারেও আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সাগরে ডুবে মারা গেছেন। আবার অনেকে সীমান্তঘেঁষা ব্রেকওয়াটার ও বেড়া টপকে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পদদলিত বা চাপে পড়ে প্রাণ হারান।
গত কয়েক দিনে, স্থল ও সমুদ্রপথে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী একযোগে সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেন। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৩০০ জন মরক্কোয় ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে, সিউতার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, গত কয়েক দিনে সীমান্ত অতিক্রমকারীর সংখ্যা ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলের দেশগুলো এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শেনজেন চুক্তির আওতায় ২৯টি দেশে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন সিউতার পরিস্থিতির ছবি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, স্পেন সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করবে ফ্রান্স।
শুক্রবার সিউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এই গণঅনুপ্রবেশকে স্পেনের ‘আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাগরের দিকে বিস্তৃত সীমান্তের ব্রেকওয়াটার অংশে নতুন একটি প্রতিরোধক (কনটেইনমেন্ট) বাধা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো সহজ হবে।
/এআই