জেরুজালেমে মাইলের পর মাইল মাকড়সার জাল, কারণ কী?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
জেরুজালেমের কাছেই দেখা মিলেছে এক বিরল দৃশ্যের। মাইলের পর মাইল বিশাল মাকড়সার জালে ঢাকা পড়ে গেছে নদীর তীর ও গাছপালা। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই অদ্ভুত ও রহস্যময় দৃশ্য যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণটিও বেশ চমকপ্রদ। তবে প্রকৃতিতে এই সৌন্দর্যের ঠাঁই মাত্র কয়েক মাসের। গ্রীষ্ম শেষ হলেই প্রকৃতির নিয়মেই বিলীন হতে থাকে এ দৃশ্য।
মূল দৃশ্যটা অনেকটা এমন— চারদিকে পাহাড়, আর মাঝ দিয়ে বয়ে চলছে ছোট নাহাল সোরিক নদী। পানির ধারার দুই পাশে বাসা বেঁধেছে লাখো মাকড়সা। পুরো এলাকাজুড়ে যেন মায়ার জাল বিছিয়ে রেখেছে প্রাণিটি।
দেখে মনে হবে কল্পকাহিনীর কোন ভূতুড়ে নগরী। বাস্তবেই এমন এক অদ্ভুত দৃশ্যের দেখা মিলেছে জেরুজালেম থেকে কিছুটা দূরে।
গা ছমছম করা এমন দৃশ্যের পেছনেও রয়েছে রহস্য। সোরিক নদীতে মূলত জেরুজালিমের বর্জ্য পানি প্রবাহিত হয়। যা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী।
দীর্ঘ চোয়ালযুক্ত মাকড়সার মূল খাদ্য মূলত এসব মশাই। তাই খাদ্যের প্রাচুর্য থাকায় এখানে বাসা বেধেছে লাখ লাখ মাকড়সা। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য থাকায় বংশ বৃদ্ধি হয়েছে তাদেরও।
মশা শিকারে এই মাকড়সা নদীর দুই ধার ধরে বুনেছে মাইলের পর মাইল মরণ ফাঁদ। শিকার ধরার জন্য পুরো গাছ জুড়ে সুক্ষ্ম জাল বিছিয়ে রেখেছে।
তবে এই রাজত্ব বেশিদিনের নয়। গ্রীষ্মকাল শেষ হলেই নামতে শুরু করবে তাপমাত্রা। আর ঠান্ডা আবহাওয়া মশার জন্য উপযোগী না। সেইসময় মশার উপদ্রব কমার পাশাপাশি টান পড়বে মাকড়র খাবারে। খাদ্যের অভাবে তাদেরও সংখ্যা কমতে থাকবে। একইসাথে কমে আসবে মাকড়সার জালও।
প্রকৃতির এই অদ্ভুত সমীকরণ সাময়িক। মৌসুমি এই পরিবর্তন কাটিয়ে খুব শীগগিরই উপত্যকাটি ফিরে যাবে সেই চিরচেনা রূপে।
/এমএইচআর