×
Logo

আন্তর্জাতিক

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, সাইপ্রাসে ব্রিটিশ-আজারবাইজানি নাগরিক গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, সাইপ্রাসে ব্রিটিশ-আজারবাইজানি নাগরিক গ্রেফতার

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হয়ে যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালানো এবং গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগে ব্রিটিশ-আজারবাইজানি এক নাগরিককে সাইপ্রাসে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে ব্রিটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম রাশাদ সুলতানভ (৪৪)। তিনি উত্তর লন্ডনের ইসলিংটন এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ জুলাই, সাইপ্রাসের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে, তিনি দেশটির হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় পরিচালিত প্রথম বিদেশভিত্তিক তদন্তের অংশ। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ এ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তদন্তের আওতায়, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে ২২ জুনের মধ্যে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) আক্রোতিরি ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার অনুসন্ধান চলছে।

পুলিশের অভিযোগ, সুলতানভ ওই সামরিক ঘাঁটির ওপর শত্রুতামূলক নজরদারি চালিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই তথ্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কাছে সরবরাহ করেন।

তবে এ বিষয়ে সাইপ্রাস পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

লন্ডনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের ইউনিটের প্রধান হেলেন ফ্লানাগান বলেন, 'এই মামলাটি প্রমাণ করে, কোনো বৈরী রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু হলে বিদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির ক্ষেত্রেও ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রয়োগ করা সম্ভব।'

প্রসঙ্গত, চলতি জুলাইয়ের শুরুতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে, তাহলে সেসব ঘাঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

এর আগে, মার্চ মাসে, ইরানের তৈরি শাহেদ ধরনের একটি ড্রোনের হামলায় আক্রোতিরি ঘাঁটির কিছু স্থাপনা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাজ্য জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার আওতায় আক্রোতিরি ঘাঁটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

একই মাসে, ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।

এছাড়াও ১৯৬০ সালে সাইপ্রাস স্বাধীনতা লাভের পরও দেশটিতে দুটি সার্বভৌম সামরিক ঘাঁটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে যুক্তরাজ্য। এর একটি হলো আক্রোতিরি বিমানঘাঁটি।

মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সামরিক অভিযানের জন্য ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে আক্রোতিরি ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাজ্য।

/এআই

Logo