নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
মিশরের বন্দরে মার্কিন গ্যাস ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, ২ জাহাজে আগুন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর শহর দামিয়েত্তায় দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ড্রোন হামলার কথা নিশ্চিত করেছে মিশর সরকার। বুধবারের এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে মিশরের পেট্রোলিয়াম জানায়, ড্রোনের আঘাতেই জাহাজ দুটিতে আগুন লাগে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি ইরানি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, মিশরে মার্কিন মালিকানাধীন ওই গ্যাস ট্যাংকারে ড্রোন হামলা নেপথ্যে তেহরানই ছিল। চলমান যুদ্ধে মিশরতে এটিই প্রথম সরাসরি আঘাত। ইরানের সক্ষমতা দেখানোই এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল বলে জানায় তারা।
তবে এই হামলা সরাসরি ইরান চালিয়েছে, নাকি ওই অঞ্চলে সক্রিয় তাদের সমর্থিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী চালিয়েছে, সে বিষয়ে সূত্র দুটি কিছু বলেননি।
জানা গেছে, ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এনারগস উইন্টার-এ আঘাত হানে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গ্রিসের মালিকানাধীন এলএনজি ট্যাংকার গ্যাসলগ সেলেম-এ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, দামিয়েত্তা বন্দরের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। একই সঙ্গে টাগবোট থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন কর্মীরা।
মিশরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বৃহস্পতিবারও বন্দরটি স্বাভাবিক সক্ষমতায় কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এনারগস উইন্টার ও গ্যাসলগ সেলেম বন্দর ছেড়ে সাগরের দিকে সরে যায়।
তবে ড্রোনটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বা কারা এর পেছনে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ হামলার দিকে নজর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। এর আগে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি তেলের দামও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দামিয়েত্তা বন্দরের ঘটনার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান বা তাদের সমর্থিত কোনো গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, 'এটি আগের ঘটনারই আরেকটি অংশ। তবে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।'
দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ বিমান হামলা চালায়। তাদের দাবি, এসব গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নির্দেশে সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরাকের ইরানপন্থি শিয়া মিলিশিয়াদের প্রভাবাধীন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, মার্কিন-সৌদি হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি এ ঘটনাকে 'অত্যন্ত গুরুতর' হিসেবে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে এর 'বিপজ্জনক পরিণতি' হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। এরপরই বুধবার রাতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানায়, যা তারা জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
/এআই