×
Logo

আন্তর্জাতিক

গাজা যুদ্ধ ইরান পর্যন্ত ছড়ানোর সুযোগ ইসরায়েল হাতছাড়া করবে না: বাইডেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

গাজা যুদ্ধ ইরান পর্যন্ত ছড়ানোর সুযোগ ইসরায়েল হাতছাড়া করবে না: বাইডেন

গাজা যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, এমন আশঙ্কা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্কার-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাইডেন কর্মকর্তারা মনে করতেন, ইসরায়েল গাজা যুদ্ধকে ব্যবহার করে ইরান ও লেবাননে হামলার সুযোগ নিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা গাজা যুদ্ধের বিস্তার এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জন্য বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন।

তাদের দাবি, গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের যেকোনো প্রচেষ্টা উল্টো ইরানের আরও বড় প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াতে হতো, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।

ইরান ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান

বাইডেন প্রশাসনের সময়ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল দেশটির বিভিন্ন অবকাঠামো এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীও ছিল।

দ্য নিউ ইয়র্কার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসন একাধিকবার নেতানিয়াহু সরকারকে ইরান বা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে ইসরায়েল অনেক ক্ষেত্রেই আগাম সতর্ক না করেই অভিযান চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

এর উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহর সদস্যদের বিরুদ্ধে চালানো পেজার হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অভিযান সম্পর্কে বাইডেন প্রশাসন আগে থেকে অবগত ছিল না।

এছাড়া হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যার ঘটনাকেও বাইডেন প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা এটিকে বাইডেনের জন্য 'অপমানজনক' ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলকে থামাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা না করলেও, অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলকে রক্ষা করতে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

বিশেষকরে, ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবরে, ইরানের হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব অভিযানে ইরানের হামলা মোকাবিলায় মার্কিন সহায়তায় ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল।

সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালাতে চেয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বারবার সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিলিপ গর্ডনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সতর্ক করলেও তারা জানত, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।

ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল বাইডেন টিম

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা নতুন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন যে, 'ইসরায়েল এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না।'

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিকেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফায় ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংঘাতের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং সেই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপরও আক্রমণের আশঙ্কা ছিল। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

‘নৈতিক সংকটে’ যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদনে সাবেক বাইডেন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন দেশটির সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছে।

ফিলিপ গর্ডন বলেন, ইসরায়েলের প্রতি অবিচল সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটি 'নৈতিক ঝুঁকির' মধ্যে পড়েছে।

কয়েকজন সাবেক বাইডেন কর্মকর্তা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে অনেক দিক থেকেই ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করেছিল, ইরান সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যাবে।

তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তৈরি হওয়া কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের একটি অংশ মনে করেছিল, এটাই ইসরায়েলকে ধ্বংস করার সুযোগ।

বর্তমানে ইসরায়েল নতুন করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আর বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, গাজা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, ইরান পর্যন্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা রয়েছে।

/এআই 

Logo