আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের গবেষণা
ইরান-লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর যৌথ হামলা হলে অচল হয়ে যাবে ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী (হিজবুল্লাহর) সমন্বিত হামলা হলে ইসরায়েলের জ্বালানি ও সমুদ্রভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে কিংবা এক কথায় অচল হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছে দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার।
গত সপ্তাহে, প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, হাইফা উপসাগর, ভূমধ্যসাগরের গ্যাসক্ষেত্র, সমুদ্রবন্দর এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচলের ওপর একযোগে হামলা হলে ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র, বিস্ফোরকবোঝাই নৌযান, এমনকি পানির নিচে হামলার সক্ষমতা ও বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ব্যবহার করে সমন্বিত হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ'র। যদিও এসব প্রতিটি হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও একযোগে হামলা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
জ্বালানি ও পানির সরবরাহ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিদ্যুতের ৭০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় ভূমধ্যসাগরের অফশোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে। পাশাপাশি দেশটির অর্ধেকের বেশি পানির চাহিদা পূরণ হয় সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট থেকে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে দেশটির জ্বালানি ও পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
আলমা সেন্টারের মতে, সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেলেও, হিজবুল্লাহ এখনো ইসরায়েলের এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশেষকরে, তাদের উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট ও নৌবাহিনী এখনো উল্লেখযোগ্য 'অ্যাকটিভ থ্রেট'।
প্রতিবেদনে ২০২২ সালের জুলাইয়ে, কারিশ গ্যাসক্ষেত্রে, হিজবুল্লাহ'র ড্রোন হামলার চেষ্টার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সেসময় ইসরায়েলি বাহিনী তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করলেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।
এছাড়াও সম্ভাব্য সমন্বিত হামলা মোকাবিলায়, ইসরায়েল, ইতোমধ্যে, বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সমুদ্রে মোতায়েনকৃত সা'আর-৬ যুদ্ধজাহাজে দূরপাল্লার বারাক এলআরএডি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রবন্দরগুলো আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং 'অ্যারো-২' ও 'অ্যারো-৩' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় রয়েছে। ভবিষ্যতে ড্রোন হামলা প্রতিরোধে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী কৌশলগত সামুদ্রিক স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে চালকবিহীন পানির নিচের যান (Unmanned Underwater Vehicle) ব্যবহার শুরু করেছে।
তবে আলমা সেন্টার বলছে, ইসরায়েলের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনেকগুলোই এখনো বাস্তব সমন্বিত হামলার মুখে 'পরীক্ষা' করা হয়নি। যদি একই সময়ে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র, বিস্ফোরক নৌযান এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের সমন্বয়ে হামলা হয়, তাহলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনটিতে সাইবার হামলার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অতীতে জ্বালানি কোম্পানি, বিমানবন্দর, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলার দাবি করেছে। একই ধরনের হামলা হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ, বন্দর পরিচালনা, জাহাজ চলাচল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জিপিএসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হতে পারে।
তবে, এতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরান-হিজবুল্লাহ'র থ্রেট যে কোনভাবেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়, সে দিকেই ইঙ্গিত করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার।
/এআই