জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন
৫০টির বেশি ড্রোন অচল করতে সক্ষম ‘মরফিয়াস এক্স-রোটর’ উন্মোচন লকহিড মার্টিনের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা অচল করতে পারবে নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র বা লেজারের তুলনায় কম খরচে ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলায় এটি কার্যকর হবে বলে দাবি করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট।
'ইঙ্কামিং থ্রেট' হিসেবে ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলায় নতুন হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ (এইচপিএম) প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘মরফিয়াস এক্স-রোটর’ উন্মোচন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এই ব্যবস্থাটি এক মিশনে ৫০টির বেশি শত্রু ড্রোন অচল করতে সক্ষম। এটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় পরিচালন ব্যয় কমবে বলেও জানিয়েছে লকহিড মার্টিন।
যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশোতে নতুন প্রযুক্তিটি প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। লকহিড জানিয়েছে, মরফিয়াস এক্স-রোটর এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি মিশন শেষে পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করবে মরফিয়াস?
মরফিয়াস একটি ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যবস্থা, যা উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ব্যবহার করে ড্রোনের ইলেকট্রনিক সিস্টেম বিকল করে দেয়।
প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র বা লেজার প্রযুক্তিতে সাধারণত একবারে একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়। তবে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি একই সময়ে একাধিক ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সেন্সর ও ইলেকট্রনিক উপাদান অচল করতে পারে।
ফলে শত্রুপক্ষের ড্রোনের ঝাঁক বা ‘সোয়ার্ম’ আক্রমণ প্রতিহত করতে এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, মরফিয়াস সেন্সর-নির্ভর নয় এবং বিদ্যমান কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থার সঙ্গে এটি ব্যবহার করা যাবে। এজন্য আলাদা কোনো ফায়ার-কন্ট্রোল রাডারেরও প্রয়োজন হবে না।
প্রযুক্তিটি ২০১৭ সাল থেকে পরীক্ষিত মরফিয়াস সিরিজের আগের সংস্করণগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
কম খরচে বেশি কার্যকারিতার দাবি
লকহিড মার্টিনের মিসাইলস অ্যান্ড ফায়ার কন্ট্রোল অ্যাডভান্সড প্রোগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার র্যান্ডি ক্রাইটস বলেন, মরফিয়াস কাউন্টার-ড্রোন সক্ষমতায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি কম খরচে বেশি সংখ্যক ড্রোন মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ স্থাপত্যের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওকলাহোমায় সাম্প্রতিক পরীক্ষায় মরফিয়াসের কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতাও দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছে লকহিড।
ড্রোন প্রতিরোধে বাড়ছে মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির ব্যবহার
বিশ্বজুড়ে সামরিক খাতে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইপিরাস তৈরি করেছে লিওনিডাস নামের একটি এইচপিএম ব্যবস্থা, যা ড্রোন ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম অচল করতে মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে এটির পরীক্ষাও হয়েছে।
এছাড়া বোইংয়ের ফ্যান্টম ওয়ার্কস এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর গবেষণাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। যদিও ইসরায়েলের বেশিরভাগ পরিচিত প্রকল্প লেজারভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে একসঙ্গে একাধিক ড্রোন অচল করার সক্ষমতার কারণে মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তিও একইসাথে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
/এআই