ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্যের তালিকায় অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের ছয় স্থাপনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ইসরায়েলের আপত্তি উপেক্ষা করে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের ছয়টি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ব ঐতিহ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য— উভয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর বৈঠকে ভোটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, চলমান সংঘাতের কারণে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ায় জরুরি প্রক্রিয়ায় এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের সেবাস্তিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা এবং দক্ষিণ লেবাননের মাউন্ট আমেল অঞ্চলের পাঁচটি দুর্গ। এর মধ্যে মধ্যযুগীয় বিউফোর্ট দুর্গ সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়।
পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত সেবাস্তিয়াকে ইতিহাসবিদরা প্রাচীন সামারিয়া বা বাইবেলীয় ইসরায়েল রাজ্যের রাজধানী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এখানে লৌহযুগ, রোমান, বাইজেন্টাইন ও ইসলামি আমলের নিদর্শন রয়েছে। খ্রিস্টান ও ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, এখানে জন দ্য ব্যাপটিস্টের (হযরত ইয়াহিয়া আ.) সমাধি রয়েছে বলেও বিশ্বাস করা হয়।
ফিলিস্তিন ২০১২ সালেই সেবাস্তিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছিল। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল আশপাশের প্রায় ২০০ হেক্টর জমি জাতীয় উদ্যান হিসেবে অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করায় ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ঝুঁকিতে পড়ে।
অন্যদিকে, লেবাননের পাঁচটি দুর্গের মধ্যে বিউফোর্ট দুর্গকে ঘিরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ দুর্গটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তবে লেবাননের প্রতিনিধি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০০০ সালে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে দুর্গগুলো শুধুই পর্যটনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিম তীরের এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে এই ভূমির সঙ্গে ইহুদিদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি বলেন, দখলদারিত্ব ও নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও সেবাস্তিয়ার বাসিন্দারাই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষা করে আসছেন।
এর আগে, চলতি সপ্তাহেই লেবাননের প্রাচীন নগরী টাইরকেও ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল ইউনেস্কো।
/এমএম/এনএ