জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন
'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান নিতে আইনি শর্ত এখনো পূরণ করেনি তুরস্ক: যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
রাশিয়ান 'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তুরস্ককে 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা যাবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট।
তুরস্ক এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে পারেনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি চিঠির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো ওই চিঠিটি বলা হয়েছে, 'এফ-৩৫' কর্মসূচিতে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই বহাল রয়েছে।
তিনদিন আগে, অর্থাৎ বুধবার (২২ জুলাই) পাঠানো চিঠিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র দফতরের ব্যুরো অব লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স কংগ্রেসে পাঠায়। মিসৌরির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ওয়েসলি বেলের এক চিঠির জবাবে এটি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আইন পুরোপুরি মেনে না চলা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে কোনো 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করা যাবে না।
রাশিয়ান 'এস-৪০০' নিয়ে বিরোধই প্রধান বাধা
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তুরস্ককে 'এফ-৩৫' কর্মসূচিতে ফিরতে হলে প্রথমে রাশিয়ার তৈরি 'এস-৪০০' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের সমাধান করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে: তুরস্কের কাছে 'এস-৪০০' ব্যবস্থা বা এর সংশ্লিষ্ট কোনো সরঞ্জাম না থাকা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবস্থা আর সংগ্রহ না করার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং মার্কিন আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, 'তুরস্ক এখনো এসব শর্ত পূরণ করেনি।'
ইউএস পররাষ্ট্র দফতর আরও জানিয়েছে, 'এস-৪০০' ইস্যু সমাধানের যেকোনো প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, আইনসম্মত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ন্যাটো সহযোগিতা বাড়ানোর আবদারও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে চিঠিতে।
এতে বলা হয়েছে, 'এস-৪০০' ইস্যু সমাধানে, আঙ্কারার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ন্যাটোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও কাজ করবে দুই দেশ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে তুরস্কের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে এবং যেসব পদক্ষেপ মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেগুলোর জন্য দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় রাখবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন-গাজা ইস্যুতে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা
চিঠিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সম্পর্ক এবং গাজা ইস্যুতে তুরস্কের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া আইএসবিরোধী অভিযান ও আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঙ্কারার সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, গাজা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে তুরস্ক 'গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা' পালন করেছে।
চিঠিতে বলা হয়, হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিল তুরস্ক।
হামাসের অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত
তবে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এখনো রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, হামাসের সামরিক শাখায় অর্থ পৌঁছাতে ব্যবহৃত ভুয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া তুরস্কে হামাসের অনানুষ্ঠানিক আর্থিক নেটওয়ার্ক ও অননুমোদিত অর্থ বিনিময় ব্যবস্থার ব্যবহার 'উদ্বেগের বিষয়' বলেও উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
চিঠির শেষে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্ক, 'এফ-৩৫' কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
/এআই