×
Logo

আন্তর্জাতিক

মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত বিহার থেকে গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত বিহার থেকে গ্রেফতার

ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (টিইটি) প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে গ্রেফতারের পর তাকে পুনে বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬ প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা সেটি ফাঁস করেছিলেন। ওই তিনজনকে গ্রেফতার করার মাধ্যমে মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ জনে। সে সময় পলাতক ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে এনে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

যেভাবে ফাঁস হয় প্রশ্নপত্র

এসআইটির দাবি, ছাপাখানার কর্মী নরেশকুমার মাহোর ছাপার সময় গোপনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সেটি ছাপাখানার সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক পলাতক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, পরে শর্মা ও সোনু কুমার সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র গুপ্তের হাতে তুলে দেন। তদন্তকারীদের মতে, পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

পুলিশ জানায়, সঞ্জয় কুমার শর্মা দুই বছর আগে পর্যন্ত ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে সোনু কুমারও একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ছাপাখানার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় তারা গোপন প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

তদন্তে নতুন তথ্যের সন্ধান

সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের সম্পর্ক কত দিনের, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে তারা কত টাকা পেয়েছিলেন এবং ষড়যন্ত্রে তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় জানতেই তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এদিকে গ্রেফতার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি গুলি (লাইভ কার্টিজ) উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিজয় মারাঠে বলেন, এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি লাইভ কার্টিজ উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলো তিনি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রেখেছিলেন, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি।

/এসআইএন

Logo