‘মানসিক চাপে মারা গেলে দায় আপনাদের’— হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে ওয়াংচুকের বাদানুবাদ ভাইরাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
ভারতের জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ওয়াংচুককে বলতে শোনা যায়, এই মানসিক চাপের কারণে যদি আমার মৃত্যু হয়, তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওয়াংচুক প্রশ্ন তোলেন, ২৬ দিন অনশন করার পরও কি তাকে তার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? সেই বৃহত্তর ভিডিওর একটি অংশে দেখা যায়, তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাকে গ্রেফতার করুন। অনশনের ২০তম দিনে তিন ঘণ্টা ধরে কেন আমাকে হয়রানি করছেন?
একপর্যায়ে তিনি হাসপাতালের দরজা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, আমাকে যেতে দিন, না হলে গ্রেফতার করুন। মানুষকে এভাবে আটকে রাখা নির্যাতনের শামিল।
পরে বাগ্বিতণ্ডা তীব্র হলে ওয়াংচুক হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় সমর্থকদের ভিডিও ধারণ অব্যাহত রাখতে বলেন তিনি। ভিডিওতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ঘটনার ব্যাখ্যায় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি ২১ জুলাই সফদরজং হাসপাতালে ঘটেছিল। সেদিন দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিলেও লিখিত আদেশ তখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়নি।
এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াংচুক সংবাদমাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্ত জানার পরই মেদান্তায় যেতে চাইছিলেন। কিন্তু লিখিত নির্দেশ না আসায় তাকে সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়।
সফদরজং হাসপাতালও একই ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, লিখিত আদালতের আদেশ পাওয়ার পরই সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওয়াংচুককে মেদান্তার চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
‘বন্দির মতো রাখা হয়েছিল’ দাবি ওয়াংচুকের
ভিডিওতে অনশন ভাঙার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— কেন্দ্র সরকারের এমন লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
ওয়াংচুকের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সফদরজং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে বন্দির মতো রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি, দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, এটা উত্তর কোরিয়ার মতো ছিল।
এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আপস করেছেন— এমন সমালোচনার জবাবে ওয়াংচুক বলেন, তার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো মামলা না হয়, তা নিশ্চিত করা।
অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আপসই করতে চাইতাম, তাহলে কি দিল্লির প্রচণ্ড গরমে ২৬ দিন অনশন করতাম? শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তো সমঝোতা করা যেত।
/এনএ