প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা মোদির
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় চলমান বিক্ষোভের মুখে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই ঘোষণায় দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একে কেউ স্বাগত জানিয়েছেন, তেমনি বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক্সে দেওয়া পোস্টে মোদি বলেন, যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। Nothing is more important than the welfare and future of our youth!
We have decided to set up fast-track courts to ensure swift and stringent punishment for those involved in paper leaks. Have directed the concerned authorities and officials to take all necessary steps in this…
তিনি আরও বলেন, যারা তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজেপি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মোদির ঘোষণার পরও তাদের মূল দাবি থেকে সরে আসেনি। দলটির অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।
দলটির প্রতিষ্ঠাতাও শিক্ষামন্ত্রীর ছবি পোস্ট করে ব্যঙ্গ করে লেখেন, হাই, আমার নাম ‘কিছুই না’। Dharmendra Pradhan Must Resign
धर्मेंद्र प्रधान को इस्तीफ़ा देना होगा https://t.co/0XShqJ6FVG
মোদির কড়া সমালোচনা রাহুল গান্ধীর
কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য প্রধানমন্ত্রীই দায়ী। তিনি বলেন, আপনিই শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হতে দিয়েছেন এবং দায়ীদের রক্ষা করেছেন।
রাহুল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। যার মধ্যে রয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সাগরিকা ঘোষসহ বিরোধী দলের আরও অনেক নেতা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। You are the one who has harmed the future of our youth the most.
You allowed and encouraged the total capture and destruction of our education system - and protected every person responsible for it.
The students’ demands are clear:
1. Sack Dharmendra Pradhan.
2. Apologise to… https://t.co/0MK4wPMNiK
অন্যদিকে, মোদির দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় মোদির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এই উদ্যোগ প্রশ্নফাঁসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে এবং সরকার যে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেটিই এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই সিদ্ধান্তকে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ কেন্দ্রীয় সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ককরোচ জনতা পার্টি ২৪ জুলাই দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৪৮তম দিনের মতো আন্দোলন চলছে এবং দেশজুড়ে শত শত মানুষ এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নিচ্ছেন।
(সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস)
/এনএ