আন্দোলনের নামে ভারতকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা হচ্ছে: বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আন্দোলনের নামে ভারতকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তার দাবি, এমন চেষ্টা আগেও সফল হয়নি, এবারও হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা— নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ করছে ছাত্র-জনতা। ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে এই আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি।
এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন দিলীপ ঘোষ।
তিনি দাবি করে বলেন, ‘এরা অনেক চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কা বানাতে। কিন্তু সফল হয়নি, এবারও হবে না। এদের পরিণতি হবে কৃষক আন্দোলনের মতো। একই লোক—যারা কৃষক আন্দোলন করে, তারাই ছাত্র আন্দোলন করে, আবার তারাই নারী আন্দোলন করে।’
এসময় বিদেশি শক্তির মদতের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা বলেন, ‘এরা হলো বিদেশি শক্তির পেশাদার কাঠের পুতুল। তাই কিছুটা উৎপাত তো করবেই।’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভুলে যাবেন না সরকারটা নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনকারীরা চাইছে সরকার কোনো কড়া সিদ্ধান্ত নিক, আর সেটাকে হাতিয়ার করে তারা সারা দেশে আবার হট্টগোল করবে।’
আন্দোলনকারীদের বিদেশের দালাল বলে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এদের পেছনে দেশের মানুষ নেই, জনতা নেই। তাই এরা বারবার নির্বাচনে হারে। কিছু দালাল টাইপের লোক বিদেশের হয়ে কাজ করছে আর সামনে এসে লাফাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এদের চিনে গেছে। শুরুতে যারা আন্দোলনে এসেছিল, সেই সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বুঝতে পেরেছে যে তাদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।’
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘এই আন্দোলনজীবীরা বিদেশের টাকায় উসকানিমূলক কাজ করে দেশে উৎপাত তৈরি করে। তবে এদের দিন প্রায় শেষের দিকে। ছাত্রদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এরা বারবার স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। যেসব শিক্ষার্থী পাস করেছে, সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে—যাতে কেউ এই ধান্দাবাজদের পাল্লায় না পড়ে।’
দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতাদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী এর আগেও মোদীজির মা সম্পর্কে কী বলেছেন তা সবার জানা। এখন যেসব নেতা বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কোনো লজ্জা নেই। কারণ এদের সংসার চলে অন্যের টাকায়। এরা তো শুধু অন্যদের মাইকের স্পিকার হিসেবে কথা বলে। অনেক বিদেশি শক্তি রয়েছে, যারা ভারতের উন্নয়ন ও ঐক্য চায় না। তারা এদের দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছে।’
সবশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী দেশের শিক্ষা সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
/এমএইচআর