বিবিসি
ককরোচ আন্দোলনের তীব্রতায় মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের তীব্রতায় মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। বুধবার (২২ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ অব্যাহত রাখায় ভারত সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি মঙ্গলবার ব্যাপকভাবে গতি লাভ করেছে।
এ সময় আন্দোলনরতদের সাথে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন।
এদিকে, সোমবার ককরোচের বিক্ষোভে পুলিশের নৃশংস দমনপীড়নের প্রতিবাদে মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ আহত হন। মঙ্গলবার আন্দোলনস্থল থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও অন্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ। কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধী ও অন্যদের বাসে টেনেহিঁচড়ে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও শেয়ার করেছে। যদিও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সোমবার ভারতের সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মধ্য দিল্লিতে ভিড় জমান। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে অন্তত ৬০ জন আহত হন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ককরোচ বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র যন্তর মন্তরের মঞ্চ ও অস্থায়ী তাঁবুগুলোও সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে দিনরাত অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে।
সহিংসতার একদিন পর, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারের মতো বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতা ককরোচ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন।
এদিকে, ককরোচ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী মোদীর বাসভবনের দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, এই দমনপীড়নের জন্য সরকারকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করার অনুমতি না পাওয়ায় কংগ্রেস মোদীর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাহুল বলেন, আলোচনার জন্য স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। কিন্তু স্পিকার জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তবে আমাদের কাছে এটা খুব স্পষ্ট ছিল যে বিতর্কে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনো আগ্রহ নেই।
/এসআর