×
Logo

আন্তর্জাতিক

বিবিসি'র প্রতিবেদন

তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে টোকিওতে কর্মীদের অফিসে শর্টস পরার উৎসাহ দিচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে টোকিওতে কর্মীদের অফিসে শর্টস পরার উৎসাহ দিচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ

তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে জাপানের রাজধানী টোকিওতে কর্মীদের অফিসে হাফপ্যান্ট পরার উৎসাহ দিচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ বলছেন, এতে পুরুষের খালি পা ও শরীরের লোম নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার কর্মীদের প্রচলিত স্যুট-টাইয়ের বদলে টি-শার্ট, কেডস ও শর্টসের মতো আরামদায়ক পোশাক পরার আহ্বান জানিয়েছে। এর অংশ হিসেবে টোকিও'র গভর্নর ইউরিকো কোইকে এপ্রিলে চালু করেন ‘টোকিও কুল বিজ’ উদ্যোগ। এটি তার দীর্ঘদিনের গরম মোকাবিলার কর্মসূচির সম্প্রসারিত রূপ, যা এখন জাপানে গ্রীষ্মকালীন একটি পরিচিত উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

তবে কর্মক্ষেত্রে শর্টস পরার অনুমতি দেওয়ার প্রায় চার মাস পরও এ নিয়ে চলছে বিতর্ক।

অনেক কর্মী মনে করছেন, প্রচণ্ড গরমে আরামদায়ক পোশাক পরার সুযোগ তাদের কাজের পরিবেশকে সহজ করবে। তবে অন্যদের অভিযোগ, এই নিয়ম নারীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। কারণ নারীদের এখনো পা ঢেকে রাখতে অনেক সময় টাইটস পরার প্রত্যাশার মুখোমুখি হতে হয়।

কিছু নারী সহকর্মীর খালি পায়ের লোম দেখতে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। অনলাইনে এ ধরনের অভিজ্ঞতাকে অনেকে ‘সুনেহারা’ নামে উল্লেখ করছেন। জাপানি শব্দ ‘সুনে’ অর্থ পায়ের পাতা বা পিণ্ডলি এবং ‘হারা’ এসেছে হয়রানি শব্দ থেকে।

টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের পরিবেশ বিভাগের কর্মকর্তা নোবোরু ওয়াতানাবে বিবিসিকে বলেন, 'তীব্র গরমে মানুষকে আরও বেশি পোশাকের বিকল্প দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য, কাউকে নির্দিষ্ট কোনো পোশাক পরতে বাধ্য করা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত পোশাক অন্য কারও জন্য অস্বস্তিকর না হয়, ততক্ষণ কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।'

জুনে গরিলা ক্লিনিকের এক জরিপে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ গ্রীষ্মে অফিসে শর্টস পরার বিপক্ষে, আর ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ এ উদ্যোগের পক্ষে। যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল শরীরের গঠন ও শরীরের লোম নিয়ে। জরিপে নারীদের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল এবং তাদের মধ্যে পুরুষ সহকর্মীদের খালি পা নিয়ে আপত্তির হার তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতে কর্মরতদের মধ্যে ক্যাজুয়াল পোশাক পরার প্রবণতা বেড়েছে। তবে টোকিও সরকারের এই উদ্যোগের কারণে এবার শর্টস পরা আরও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। যদিও অনেক পুরুষ নিজেদের পায়ের লোম নিয়ে এখন অস্বস্তিতে ভুগছেন।

গরিলা ক্লিনিকের পরিচালক আকিফুমি ফুনাতসু জানান, শর্টস পরার কারণে শুধু সৌন্দর্যগত নয়, সামাজিক শিষ্টাচারের বিষয় হিসেবেও অনেক মানুষ এখন লোম অপসারণের জন্য ক্লিনিকে আসছেন। তার মতে, অনেক পুরুষ মনে করছেন, আশপাশের মানুষের অস্বস্তি এড়াতে তাদের পায়ের লোম কমানো উচিত।

২০০৫ সালে জাপানের পরিবেশমন্ত্রী থাকাকালে ইউরিকো কোইকে প্রথম গ্রীষ্মকালীন পোশাক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। তখন তিনি ‘কুল বিজ’ নামে একটি জ্বালানি সাশ্রয়ী কর্মসূচি চালু করেন, যেখানে অফিসকর্মীদের টাই ও জ্যাকেট বাদ দিয়ে হালকা পোশাক পরার উৎসাহ দেওয়া হয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমি প্রকাশ্যে টাই ও জ্যাকেট ছাড়া উপস্থিত হয়ে এ উদ্যোগের প্রচারে ভূমিকা রাখেন। পরে ২০১১ সালের মার্চে তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামির পর জ্বালানি ব্যবহার কমাতে ‘সুপার কুল বিজ’ চালু করা হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জাপানেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বেড়েছে জ্বালানির দাম। জাপান আবহাওয়া সংস্থা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনকে বোঝাতে ‘কোকুশো-বি’ (প্রচণ্ড গরমের দিন) শব্দটি ব্যবহার করে জনগণকে সতর্ক করছে।

জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে দেশটিতে হিটস্ট্রোকে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৮০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গরম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পানি পান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি জাপানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নানা ধরনের নতুন পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যানযুক্ত পোশাক, একবার ব্যবহারযোগ্য ভেজা তোয়ালে, অতিবেগুনি রশ্মি ও তাপ প্রতিরোধী ছাতা এবং হাতে বহনযোগ্য ছোট ফ্যান।

জাপান একাডেমিক নেটওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিডাকশনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীরের কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তাই বর্ষা মৌসুম থেকেই গরমের প্রস্তুতি নেওয়া এবং হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জাপানের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিকভাবে নিজেকে ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা কমে যায়, যা গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।

/এআই 

Logo