জেরুজালেম পোস্ট
নাতাঞ্জে পাহাড়ের গভীরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হাজারো সেন্ট্রিফিউজ সরিয়েছে ইরান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সচল রাখতে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ নাতাঞ্জের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে জেরুজালেম পোস্ট।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত বছরে এসব সেন্ট্রিফিউজ পাহাড়ের গভীরে স্থানান্তর করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সংবেদনশীল পারমাণবিক সরঞ্জাম পাহাড়ের এত গভীরে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তেহরান বড় ধরনের সামরিক হামলার পরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত। ২০২৫ সালের জুনে, ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা হামলার শিকার হলেও পাহাড়টির নিচে নির্মাণাধীন টানেল স্থাপনাটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরমাণু বিস্তার রোধবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস)।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থাপনাটি ভূ-পৃষ্ঠের ১০০ মিটারেরও বেশি গভীরে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে এটি ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার চেয়েও বেশি সুরক্ষিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ধরনের গভীর পাহাড়ি স্থাপনা নির্মাণ অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার ধ্বংসকারী অস্ত্র দিয়েও এ ধরনের স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
তবে ইরানের দাবি, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের স্থাপনাটি কেবল উন্নত প্রযুক্তির সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের জন্য ব্যবহৃত হবে। এটি কোনো সক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নয় বলেও দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ওই স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না ইরান। আইএইএ'র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ বিষয়ে তেহরানের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও সংস্থাটির দাবি, ইরান এমন কোনো তথ্য দেয়নি, যার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব বা স্থাপনাটির ভেতরে পারমাণবিক উপাদান থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায়।
ভূগর্ভের গভীরে অবস্থানের কারণে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে স্থাপনাটি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি জানান, টানেলের প্রবেশপথগুলোর আশপাশে ইরানের কার্যক্রম বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তার প্রশাসন।
/এআই