হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই টানা ৯ম রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে টানা নবম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে, চালানো এসব হামলায় ইরানের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাবরিজ, চাবাহার, সিরিক ও জাস্কসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের এমন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে এসব হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরও এক সেনা নিহত হওয়ার খবর এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে এটি তৃতীয় মার্কিন সেনার মৃত্যু। একই সময়ে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, এক মাস আগে হওয়া তেহরান-ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বন্দরনগরী মাহশাহর ও ইমাম খোমেইনি এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক শহরের কাছে এবং বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ শহরের আশপাশেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে তারা।
আইআরআইবি আরও জানায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরের কাছে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আর আধা-সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কোনারাক ও চাবাহার শহরে সক্রিয় করা হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৭
এর আগে সেন্টকম জানায়, শনিবার উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় বিস্ঘটনে এক মার্কিন সেনা নিহত হন।
এছাড়া শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলার ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত কিছু মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন।
সাম্প্রতিক এসব মৃত্যুর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২০ জনের বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে চলমান এই সংঘাতে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
/এআই