আল জাজিরার প্রতিবেদন
ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ ধ্বংস করতে গিয়ে নিহত মার্কিন সেনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিরাপদে ধ্বংস করার (কন্ট্রোলড ডেটোনেশন) সময় বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের শুরু থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এতে বলা হয়, উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই এক সেনা সদস্য নিহত হন। নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সেন্টকম জানায়, একই ঘটনায় আরেক সেনা সদস্য সামান্য আহত হলেও তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
এর আগে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) জর্ডানে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। রোববার সেন্টকম জানায়, হামলার স্থান থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
এদিকে টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এক মাস আগে, স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে।
চলমান এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে ইরান।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ৩০ হাজার ডলার ব্যয় হয়। ফলে তুলনামূলক কম খরচে বিপুল সংখ্যক ড্রোন মোতায়েন করতে সক্ষম হচ্ছে তেহরান। অন্যদিকে, এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া সব ক্ষেত্রেই সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে পারে না।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবাদান শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা অভিযোগ করেছে, দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা এ হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। সংস্থাটির ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনও নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক শিবির এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
অন্যদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, দেশটির একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্রে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার শিকার হয়েছে। এতে সেখানে আগুন লাগে। কুয়েতের দাবি, এটি বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা।
এছাড়া রোববার ইরানের আরেকটি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাটি ভণ্ডুল করে দেয়।
একই দিন জর্ডানজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে ইরানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছে জর্ডান।
/এআই