টানা ৭ম রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা : বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি 'শেষ' ঘোষণা করার পর থেকেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলা স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়। অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় সেন্টকম।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতও রয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানায়, শত্রুপক্ষের হামলায় দেশটির আরও একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলায় স্থাপনাটির একটি অংশে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়।
এদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একই ধরনের দাবি করেছে বাহরাইনও। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলের ইয়াজদ শহর, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বন্দর আব্বাস বন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
চলতি বছরের জুনে, যুদ্ধ বন্ধ রেখে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যদিও যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর ছিল, তবুও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তেহরানের দাবি ছিল, প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে। এসব হামলার জবাবেই ইরানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপর গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। সেই থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি দেশটির বন্দরগুলোতে আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে যায়। তবে এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে সেন্টকম। তাদের ভাষ্য, 'আইআরজিসির বেশিরভাগ দাবির মতো এটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা।'
শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে।
এদিকে, সিবিএস নিউজকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
এর আগে, ইরান অভিযোগ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো: সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র 'শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামোও রয়েছে।'
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চাবাহার বন্দরের একটি নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলার সময় টাওয়ারটি ধসে পড়ার একটি ছবিও প্রকাশ করেছেন।
সেন্টকমের দাবি, টাওয়ারটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামুদ্রিক নজরদারি নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
/এআই