×
Logo

আন্তর্জাতিক

ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেতুর টোল ভাগ করবে না কানাডা: কার্নি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পিএম

ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেতুর টোল ভাগ করবে না কানাডা: কার্নি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী নতুন গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতুর টোল থেকে কোনো অর্থ ভাগাভাগি করবে না কানাডা। সেতু নির্মাণে করা বিনিয়োগের পুরো অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত টোলের রাজস্ব কানাডার কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ করেছে কানাডা। তাই সেই অর্থ পুরোপুরি ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত টোলের আয় ভাগাভাগির প্রশ্নই আসে না।

কানাডার অন্টারিও'র উইন্ডসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটকে সংযুক্ত করা গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতুর উদ্বোধন আগামী ২৭ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে। তবে উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সেতু চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তিনি 'অনেক ভালো একটি চুক্তি' নিশ্চিত করেছেন। এরপর বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন।

তবে কার্নি বলেন, সেতু নিয়ে ২০১২ সালে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে কানাডার বিনিয়োগ পুরোপুরি উঠে না আসা পর্যন্ত টোল থেকে অর্জিত সব মুনাফা কানাডার পাওয়ার কথা।

তিনি আরও জানান, ঋণের অর্থ পরিশোধের পর পরিচালনা ব্যয়—যেমন রক্ষণাবেক্ষণ ও তুষার অপসারণের খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট নিট আয়ের প্রথম ১৫ বছর দুই দেশ সমানভাবে ভাগ করে নেবে।

কার্নির ভাষ্য, শুরুতে পরিচালন ব্যয় মেটানোর পর নিট আয় খুব বেশি হবে না। আর যুক্তরাষ্ট্র যে অংশ পাবে, তা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সর্বশেষ সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে রয়টার্সকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী ভবিষ্যতে টোলের নিট মুনাফার ৫০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। পাশাপাশি বর্তমান টোলের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানানোর সুযোগও থাকবে ওয়াশিংটনের।

এদিকে, অন্টারিওর উত্তরাঞ্চলের দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় কানাডার সমালোচনা করেছেন মিশিগানের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। তারা অভিযোগ করেন, বন ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে কানাডা।

জবাবে কার্নি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রেরও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও অবদান প্রয়োজন। এটি সবার দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রও বাদ নয়।'

/এআই 

Logo