×
Logo

আন্তর্জাতিক

নিজস্ব প্রযুক্তিতে 'জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মুনিশন' তৈরির ঘোষণা ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

নিজস্ব প্রযুক্তিতে 'জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মুনিশন' তৈরির ঘোষণা ইসরায়েলের

বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সামরিক সক্ষমতায় স্বনির্ভর হওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিজস্ব জেডিএএম (জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মুনিশন) বোমা ব্যাপক হারে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ ধরনের বোমার বড় পরিসরের উৎপাদনে যেতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের নির্দেশনা এবং সাবেক বিচারপতি জ্যাকব টারকেলের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে নিজস্ব বোমা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ইসরায়েল। কয়েক দশক ধরে এ ধরনের অস্ত্রের জন্য দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছিল।

২০২৪ সালের মে মাসে, রাফাহ অভিযানে মতপার্থক্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে কিছু বোমা সরবরাহে আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকেই নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে আরও জোর দেয় তেলআবিব।

প্রথম দিকে, ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল সাধারণ বা ‘ডাম্ব’ বোমা নিজস্বভাবে তৈরি করা। তবে পরে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়ে উন্নত প্রযুক্তির বোমা, বিশেষ করে জেডিএএম ও স্মার্ট বোমা উৎপাদনের দিকে এগোয়।

জেডিএএম বোমা কী?

জেডিএএম মূলত একটি গাইডেন্স কিট, যা আনগাইডেড বোমাকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এসব বোমা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে সাধারণ বোমাকে নির্ভুল অস্ত্রে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কিট তৈরি করে। তবে দেশটির প্রয়োজনীয় পরিমাণ উৎপাদনের সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি।

অস্ত্র উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ইসরায়েল

২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি শেকেলের দুটি বড় চুক্তি করে। সামরিক সরঞ্জাম ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের স্বনির্ভরতা বাড়ানোই ছিল এসব চুক্তির লক্ষ্য।

এর আগে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক হাজার বিমান ও প্রায় ১৫০টি জাহাজের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আনা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম বলেন, গত দুই বছরে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইসরায়েল একই সঙ্গে দুটি পথে এগোচ্ছে: একদিকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অন্যদিকে, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

ইরান ও লেবাননের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরায়েল গোলাবারুদ উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। বারাম বলেন, আগাম প্রস্তুতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এসব অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েনি।

তিনি বলেন, অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে উৎপাদন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনের গতি আরও বাড়াবে।

বারাম ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের প্রশংসা করেন। তার দাবি, এই সমন্বয়ের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্র ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে।

তবে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে, ইসরায়েল কীভাবে দ্রুত নিজস্ব গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর অর্থ জোগাড় করছে, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো এবং 'অ্যারো-৩' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না বলে জানা গেছে।

/এআই 

Logo