গাজায় শিশু হত্যা ‘নিয়মিত ঘটনা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে : আনাদুলু এজেন্সি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদনে বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি জানিয়েছে, গাজায় শিশু হত্যা এখন ‘নিয়মিত ঘটনায়’ পরিণত হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে হারেৎজ জানায়, এই সংখ্যা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।
হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের বেশিরভাগই বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া স্নাইপার হামলা, ভবন ধসে পড়া এবং বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলি এই সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গাজার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে অনেক শিশু আহত হওয়ার পরও চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে। পাশাপাশি ক্ষুধা ও রোগেও কিছু শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুকে সরকারি নিহতের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিবেদনে গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। হারেৎজ বলেছে, এখনো বহু মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে। প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই তাঁবুতে বসবাস করছে।
তীব্র গরম ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তাঁবুগুলোতে ইঁদুর ও মশার উপদ্রব বেড়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ ত্বকের সংক্রমণে ভুগছে বলেও জানিয়েছে পত্রিকাটি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে হারেৎজ জানায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব ঘটনায় ১ হাজার ১২৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলেও জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
/এআই