×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণ

হরমুজ নিয়ে ইরান মূল্যবান আরব অংশীদারকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

হরমুজ নিয়ে ইরান মূল্যবান আরব অংশীদারকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে

হরমুজ নিয়ে ইরান মূল্যবান আরব অংশীদার ওমানকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। রোববার ওমানের দুকম বন্দরে রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং বিমানবাহী রণতরীর জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) একটি ভারী ও আকস্মিক হামলা চালিয়েছে বলে জানানোর পর সম্পর্কের আরও তীব্র অবনতি ঘটে।

ওমানে এই হামলার ফলে অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কে গভীরতম সংকট পার করছে ইরান এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ একটি সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। 

ওমান এই ঘটনাকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ' আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। এর প্রতিবাদস্বরূপ ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ওমান যা দুই দেশের সম্পর্কের নাটকীয় অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তাবিত একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ঘটেছে।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ওমান তার নিজস্ব জলসীমার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাটি বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে, ইরানের জলসীমায় প্রবেশকারী জাহাজগুলোর জন্য তেহরানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যদিও তাদের ট্রানজিট ফি দিতে হবে না।

কৌশলগত এই জলপথের যান চলাচলের ওপর আরও বেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার তেহরানের বৃহত্তর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়েছে যার মধ্যে জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘ব্যবস্থাপনা পরিষেবা’র জন্য অর্থ আদায়ের একটি কথিত পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের আলোচনা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং এর জন্য ওমানের ওপর মার্কিন চাপকে দায়ী করেন।

আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা ছিল ওমানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। দুর্ভাগ্যবশত, ওমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য ও গোপন চাপের কারণে এটি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। 

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের সামরিক কর্মকর্তা ও কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতমূলক বক্তব্য আসতে থাকে।

মঙ্গলবার, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন যে, ইরান কর্তৃক নির্ধারিত পথের বাইরে এবং সশস্ত্র বাহিনীর অনুমোদন ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা এবং তার সামরিক বাহিনীকে রসদ সরবরাহকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো ব্যাপকতর সংঘাত পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে।

সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলী খেজরিয়ান ঘোষণা করেন যে, ইরান ওমানের সমর্থন থাকুক বা না থাকুক হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যদি মাস্কাট সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয় অথবা গোপনে ইরানের শত্রুদের সহায়তা করে, তবে তার ভূখণ্ড ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ থাকবে না। 

অন্যান্য আইনপ্রণেতারাও একই বার্তা দিয়েছেন। ইব্রাহিম রেজাই বলেন, ওমানের উচিত ইরানকে এই অঞ্চলের প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। অন্যদিকে মাহমুদ নাভাবিয়ান যুক্তি দিয়েছেন যে, আইআরজিসি-র উচিত প্রণালীটির একচেটিয়া ব্যবস্থাপনা আরোপ করা। 

/এসআর 

Logo