সিএনএনের প্রতিবেদন
ডিআর কঙ্গোতে কর্মরত মার্কিন নাগরিকের শরীরে ইবোলা শনাক্ত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) একটি মানবিক সহায়তা সংস্থায় কর্মরত এক মার্কিন নাগরিকের শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।
সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার কর্মস্থল, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থা এবং ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সংক্রমণ যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। একইসঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিকে, সিএনএনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিআর কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩০ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬৪৮ জন।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সার্জ জানায়, ডিআর কঙ্গোতে কর্মরত মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারি চিকিৎসক ডা. পিটার স্ট্যাফোর্ড ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। উপসর্গ দেখা দেয়ার পর পরীক্ষায় তার শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
সংক্রমণের সময় ডা. স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী ডা. রেবেকা স্ট্যাফোর্ড, যিনি নিজেও চিকিৎসক, এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা আরেক চিকিৎসককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এছাড়া সাত বছরের কম বয়সী তাদের চার সন্তানকেও ভাইরাসের লক্ষণ পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়।
২০২১ সাল থেকে ডিআর কঙ্গোতে বসবাসকারী স্ট্যাফোর্ড পরিবারকে পরে জার্মানির বার্লিনে সরিয়ে নেয়া হয়। সেখানে হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয় ডা. পিটার স্ট্যাফোর্ডকে। সুস্থ হওয়ার পর সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অসুস্থতার সময় তার উচ্চ জ্বর, তীব্র দুর্বলতা ছিল এবং একপর্যায়ে নিজের পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী রেবেকা স্ট্যাফোর্ড বলেন, স্বামীর চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে যেভাবে সহায়তা এসেছে, তা কৃতজ্ঞতার হলেও একই সুযোগ তাদের কঙ্গোলিজ বন্ধুদের না পাওয়ার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে বিচলিত করেছিল। তবে পুরো পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন তাদের সন্তানরা ভালো আছে বলেও জানান তিনি।
সিডিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলার কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, মার্কিন জনগণ ও দেশটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম। কারণ, বর্তমান প্রাদুর্ভাব মূলত ডিআর কঙ্গোর প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং প্রতিবেশী উগান্ডার কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে, গত মাসে, চলমান এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই আফ্রিকার বাইরে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত হয় ফ্রান্সে। ডিআর কঙ্গোতে মানবিক সহায়তা মিশন শেষ করে দেশে ফেরার পর এক ত্রাণকর্মীর শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়ে বলে জানায় ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটিতে এটিই ছিল ইবোলার প্রথম নিশ্চিত রোগী।
/এআই