×
Logo

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক সংগ্রাম পেরিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, কেমন ছিল উত্থানের গল্প?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

রাজনৈতিক সংগ্রাম পেরিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, কেমন ছিল উত্থানের গল্প?

শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর উঠেছিলেন ক্ষমতার শিখরে। এরপর প্রায় ৩৭ বছরের শাসনে ইরানকে পরিণত করেন মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তিতে। দীর্ঘ এই শাসনকালে লড়েছেন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির বিরুদ্ধে। সামলেছেন অভ্যন্তরীণ সংকটও। শত চাপেও কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করেননি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। উৎখাতে ব্যর্থ হয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে হত্যা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

শিয়া অনুসারীদের কাছে পবিত্র শহর হিসেবে বিবেচিত মাশহাদ শহরে ১৯৩৯ সালে জন্ম হয়েছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। ছোট থেকেই চোখে কম দেখতেন। স্থানীয় আলেম বাবার আট সন্তানের পরিবারে ছিল চরম অভাব। এর মধ্যেই বেড়ে ওঠা খামেনির, ধীরে ধীরে সক্রিয় হন রাজনীতিতেও।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে যে ইসলামি বিপ্লব হয়েছিল ইরানে, তাতে সামনের সারিতেই ছিলেন খামেনি। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপিয়ে বেশ কয়েকবারই যেতে হয়েছিল কারাগারে। ১৯৭৯ সালে খোমেনি যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন, তখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন খামেনিও।

খামেনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি। এরপর, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সামলান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব।

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে বেছে নেয় তৎকালীন বিশেষজ্ঞ পরিষদ। এর আগে, ১৯৮১ সালে মসজিদে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন খামেনি। ওই হামলায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল তার ডান হাত।

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর, প্রায় ৩৭ বছর ধরেই ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ৬ জন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছেন।

এই দীর্ঘ শাসনামলে, দেখেছেন বহু চড়াই-উতরাই। বিভিন্ন সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে ইরান। তাকে উৎখাতের কম চেষ্টা করেনি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী দুই দেশের চক্ষুশূল হয়েও বছরের পর বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক হিসেবে নিজের পদ অক্ষুণ্ন রেখেছেন খামেনি। তার আমলে মিসাইল-ড্রোনসহ নানা সমরাস্ত্র তৈরিতে অভাবনীয় সফলতা পায় ইরান।

তবে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কুদস ফোর্স কমান্ডার কাশেম সোলাইমানি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসিসহ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে। এরপরও মনোবল হারাননি। শত্রুর চোখে চোখ রেখে চালিয়েছেন লড়াই। এবার তিনিও যোগ দিলেন নিহত সহযোদ্ধাদের দলে। কোণঠাসা করতে ব্যর্থ হয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালিয়ে খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র।

/এসআইএন

Logo