×
Logo

আন্তর্জাতিক

কিউবায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ এএম

কিউবায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ

জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি বিকল হয়ে যাওয়ায় দ্বীপজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর ধরে চলা জ্বালানি সংকটের মধ্যে এটি দেশটির জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সম্পূর্ণ ধস নেমেছে। কী কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে, তা তদন্ত করছে গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা।

জ্বালানি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি জানান, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে হাসপাতালসহ জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জরুরি ‘মাইক্রো সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবায় একাধিকবার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। পুরোনো ও জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

চলতি বছরে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কিউবার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে দেশটির প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারীরা তেল পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত মার্চ মাসেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত দুইবার দেশজুড়ে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেন। অভিযোগ, জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত করে ওয়াশিংটন কিউবার জনগণকে চরম সংকটে ফেলতে চাইছে।

তার দাবি, 'শ্বাসরোধের মাধ্যমে একটি সামাজিক বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।'

দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কিউবার শিক্ষা, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কিউবার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপের উদ্দেশ্য দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের পথ আরও উন্মুক্ত করা। এ লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

গত মাসে, কিউবার জাতীয় পরিষদ অর্থনীতি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সংস্কার অনুমোদন করে। তবে কিউবার পররাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা বলেন, এসব সংস্কার কোনো বিদেশি চাপের কারণে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র এসব সংস্কারকে “সামান্য ও অনেক দেরিতে নেওয়া এবং মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ' বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। মে মাসে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ হাভানায় কিউবার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড-এর প্রধানও গুয়ানতানামো নৌঘাঁটির সীমান্ত এলাকায় কিউবার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিউবা মূলত রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। যদিও কিউবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দেশটির মানবিক সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিউবার পররাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার ভাষায়, 'আজ কিউবার জনগণের বিরুদ্ধে যা ঘটছে, তা এক ধরনের গণহত্যা।'

/এআই

Logo