×
Logo

আন্তর্জাতিক

আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসক সাফিয়ার মুক্তির দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ এএম

আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসক সাফিয়ার মুক্তির দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

গাজায় আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ডা. আবু সাফিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, তার আইনজীবীর বর্ণনায় উঠে আসা নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং চিকিৎসকের জীবন এখন তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, নীতি ও ক্যাম্পেইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ডা. আবু সাফিয়ার আইনজীবীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য 'ভয়াবহ'। অভিযোগ অনুযায়ী, আটক অবস্থায় তাকে নির্যাতন, চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে। এসব কারণে তার জীবন 'আসন্ন ঝুঁকির' মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এরিকা গুয়েভারা রোসাস আরও বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় যিনি নিজের রোগীদের ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাকে শুরুতেই আটক করা উচিত ছিল না।

তার ভাষ্য, 'যে চিকিৎসক ইসরায়েলের গাজা অভিযানের সময় নিজের রোগীদের ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাকে কখনোই কারাবন্দি করা উচিত ছিল না।'

তিনি ডা. আবু সাফিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে বলেন, তার জীবন যখন ঝুঁকির মুখে, তখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র নীরব থাকতে পারে না।

তবে অ্যামনেস্টির উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে, ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ও গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। 

সংস্থাটির দাবি, সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তিনি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে পিএইচআরআই জানায়, রামলা কারাগারের একটি ভূগর্ভস্থ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে স্থানান্তরের পর থেকেই আবু সাফিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছে। দুই দিন আগে, তার আইনজীবী কারাগারে গিয়ে সাক্ষাৎ করলে চিকিৎসকের শরীরে গুরুতর নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাফিয়ার মাথা, চোখের চারপাশ, কান এবং ঘাড়ে গুরুতর আঘাতের দাগ ছিল। তিনি অত্যন্ত দুর্বল দেখাচ্ছিলেন এবং ঠিকভাবে শ্বাস নিতে ও কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল।

আইনজীবীর কাছে আবু সাফিয়া অভিযোগ করেন, কারাগারের কক্ষের ভেতর চার থেকে পাঁচজন কারারক্ষী তাকে মারধর করেছেন।

ডা. হুসাম আবু সাফিয়া উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক। ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই অভিযানে হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও কয়েকজন রোগীকেও আটক করা হয়।

এর আগেও, তার আইনজীবী নাসের ওদেহ অভিযোগ করেছিলেন, কারাগারে আইনি সাক্ষাতের সময়ও আবু সাফিয়ার হাত-পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল। এছাড়া তাকে বিশুদ্ধ খাবার পানি, পর্যাপ্ত খাবার এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকায় কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আটকের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ডা. আবু সাফিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খবর প্রকাশের পর তার নিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

/এআই 

Logo