×
Logo

আন্তর্জাতিক

খামেনির জানাজা অংশগ্রহণ 'না' করতে ১৩ দেশকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র: ইরানি গণমাধ্যম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

খামেনির জানাজা অংশগ্রহণ 'না' করতে ১৩ দেশকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র: ইরানি গণমাধ্যম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ না নেয়ার জন্য অন্তত ১৩টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাসনিম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ শেষ পর্যন্ত তেহরানে অনুষ্ঠিত খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিনিধি পাঠায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব দেশের মধ্যে কয়েকটি সরকার পরে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তেহরানকে তাদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।

তাসনিমের দাবি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, খামেনির স্মরণানুষ্ঠান উপলক্ষে বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোর তেহরান সফর নিরুৎসাহিত করতে গত পাঁচ দিন ধরে ‘সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গোপন নির্দেশনা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে স্বাগতিক সরকারগুলোর কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে বলেন। সেই বার্তায় উল্লেখ ছিল, খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ নয়’; এমন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এছাড়া, তাসনিমের উদ্ধৃত দুই আরব কূটনীতিকের দাবি, মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাদের জানাজায় প্রতিনিধি না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও কয়েকটি দেশের সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে তাসনিম তাদের প্রতিবেদনে এসব দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

/এআই 

Logo