খামেনির জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন: সাতদিনে কোথায়, কী আয়োজন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদে দাফনের আগে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ৭ দিনব্যাপী (৩-৯ জুলাই) শ্রদ্ধা নিবেদন, জানাজা, শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষের সমবেত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মার্চেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করার বিষয়ে ভেবেছিল ইরান, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তেহরান।
এই ৭ দিনের আয়োজনের প্রথম দিনে (৩রা জুলাই) তেহরানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতারা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের অন্যতম বৃহত্তম প্রার্থনাকেন্দ্র গ্রান্ড মোসাল্লায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে জানাজা আয়োজন করার পরিকল্পনা রযেছে।
এরপর তেহরান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইরানের শিয়া ইসলামি পাণ্ডিত্যের প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ; সেখানে ৬ ও ৭ জুলাই থাকছে তাকে বিদায় জানানোর আয়োজন।
ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানান, ইরানের প্রয়াত এ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে নেওয়া হবে ইরাকে। দেশটির শিয়া মুসলিমদের অনুরোধে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মধ্যে ৮ জুলাই ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর পর দেশটির নাজাফ ও কারবালা শহরে তার মরদেহ প্রদক্ষিণ করা হবে।
এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায়ের জন্য ইরানের মাশহাদে এনে শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম রেজার মাজারে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
ইসলামী বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ওঠে আসা দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের নেতৃত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন।
এদিকে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ থেকে ইরানে গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।