কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ২৭
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ এএম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। শহরের মেয়র এই হামলাকে কিয়েভের ওপর চালানো ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। খবর বিবিসির।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এর আগে আরও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে এবারের অভিযানে রাজধানীর ওপর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাশিয়ার দাবি, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
তবে ইউক্রেন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের মতে, আগ্রাসী দেশ ও আত্মরক্ষাকারী দেশের কর্মকাণ্ডকে এক কাতারে দেখা ভুল।
কিয়েভ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার সময় ৫২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিশু ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক আশ্রয়গ্রহণকারী।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাশিয়া রাতে ৪৯৬টি ড্রোন এবং ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। এদিকে, বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটি ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
/এএন