ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় ২ কোটি মানুষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন উপলক্ষে তেহরানে প্রায় ২ কোটি, দেশজুড়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ, ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ১৪ হাজার সাংবাদিক অংশগ্রহণের ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এই সংখ্যা বাস্তবায়িত হলে তা ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দাফনের আগে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি চলছে। চার মাস আগে তার মৃত্যুর পর আগামী ৯ জুলাই তাকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে, যা ঘিরে বড় ধরনের জনসমাগমের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
খোমেনির ১৯৮৯ সালের জানাজা, ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজার একটি। ১৯৮৯ সালের ৬ জুন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন।
শোকাহত মানুষ আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার যাত্রার পথ আটকে দেন। প্রচণ্ড ভিড়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় বহু মানুষ পিষ্ট হন, যাদের মধ্যে খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে গুলি ছোড়ে, তবুও ভিড় কমেনি। শেষ পর্যন্ত ওইদিন দাফন স্থগিত করতে হয়। পরদিন সকাল ৭টায় জানাজা শুরু করা হয়। এর আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত মরদেহের পাশে অবস্থান করেন বলে জানানো হয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এটিকে জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যা সে সময় ইরানের জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তিনি নিহত হন। বর্তমানে ইরান প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, এপি
/এএন