×
Logo

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে চালানো এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। খবর, রয়টার্সের। 

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের অন্তত ছয়টি তলা ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ভোর থেকেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। শহরের অন্তত ৩৬টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এদিকে, হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার সতর্কতা দিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন। হামলার পর তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে তারা ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, রাতভর ৩২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

যুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি শিল্প স্থাপনা। এছাড়া লেনিনগ্রাদ ও বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে। এতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান চার বছরেরও বেশি সময়ের যুদ্ধ অবসানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন।

/এমএসটি /এনএ 

Logo