×
Logo

আন্তর্জাতিক

বিবিসি'র প্রতিবেদন

বিনিয়োগের নামে একশ' কোটি ডলারের প্রতারণা, ৩০ বছরের জেল চীনা ধনকুবেরের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

বিনিয়োগের নামে একশ' কোটি ডলারের প্রতারণা, ৩০ বছরের জেল চীনা ধনকুবেরের

একসময় চীনের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত গুও ওয়েংগুইকে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনলাইন অনুসারীদের কাছ থেকে শত কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই সাজা ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত রায়ে বলেন, বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির নামে অনুসারীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন গুও। আদালত তাকে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, প্রতারণা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় যারা গুওর ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তাদের সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছেন তিনি। মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য ব্যবহার করেছেন।

আদালতকক্ষে রায় ঘোষণার সময় গুওর বহু সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। গুও ওয়েংগুই ছাড়াও তিনি মাইলস গুও এবং হো ওয়ান কওক নামেও পরিচিত।

অনলাইন অনুসারীদের কাছ থেকে তুলেছিলেন শত কোটি ডলার

মামলার প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনলাইন অনুসারীদের বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পে যুক্ত করার মাধ্যমে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন গুও।

তদন্তে উঠে আসে, ওই অর্থ দিয়ে তিনি প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ, ১০ লাখ ডলারের একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ি এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের একটি ইয়ট কিনেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি শন এস. বাকলি বলেন, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গুও হাজারো মানুষের বিশ্বাসকে নিজের লোভ চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, 'আজকের এই রায় প্রমাণ করে, খ্যাতি কিংবা সম্পদ কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় না। যারা নিজেদের সম্পদ বাড়াতে সাধারণ মানুষ ও পরিবারকে প্রতারণার শিকার করে, তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতেই হবে।'

চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়ে হয়ে ওঠেন সরকারবিরোধী মুখ

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে চীনে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন গুও। একসময় দেশটির সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

তবে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৭ সালে তিনি চীন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়ে নিজেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কড়া সমালোচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং প্রবাসী চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের অনলাইন অনুসারী গড়ে তোলেন।

এই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের মতো চীনবিরোধী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন।

তবে গুও শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, অনুসারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে নয়, বরং চীনের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে। আদালত অবশ্য সেই দাবি গ্রহণ করেননি এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

/এআই 

Logo