ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
'আপত্তি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরান-লেবানন ইস্যু একসঙ্গে তুলেছিলেন ট্রাম্প'
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ইরান ও লেবাননের সংঘাতকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে জোর দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। যদিও তেলআবিব চেয়েছিল দুটি সংঘাতকে সম্পূর্ণ আলাদা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করতে।
সোমবার (২৯ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কাটজ বলেন, ইরান ও লেবাননের সংঘাতকে একসঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে তার ‘আক্ষেপ’ রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থে করা হয়েছিল।
তার ভাষ্য, 'যুক্তরাষ্ট্র খুবই আগ্রহী ছিল ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা এগিয়ে নিতে। তাদের দৃষ্টিতে লেবাননের পরিস্থিতি সেই আলোচনার পথে একটি বড় বাধা ছিল।'
কাটজ দাবি করেন, লেবাননে ইসরায়েলের কোনো ভূখণ্ডগত দাবি নেই। তবে দেশটির সেনাবাহিনী সেখান থেকে সরে যাবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, পুরো লেবাননে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া স্পম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়েছে ইসরায়েল।
আলোচনায় বড় বাধা লেবানন ইস্যু
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনায় লেবানন ইস্যু ইতোমধ্যেই জটিলতা তৈরি করেছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এই ইস্যু দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সীমান্তবর্তী গ্রাম ধ্বংসের দাবি
ব্রিফিংয়ে কাটজ আরও দাবি করেন, লেবানন সীমান্তের পশ্চিমে শতভাগ গ্রাম এবং সীমান্তের বাকি অংশের প্রায় ৭৩ শতাংশ গ্রাম ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।
এছাড়া দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি। যদিও এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হিজবুল্লাহ হামলা চালালে বৈরুতে আবারও হামলার হুমকি
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুনরায় সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালালে বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় আবারও হামলা চালাবে ইসরায়েল। মূলত, দাহিয়েহকে হিজবুল্লাহ'র অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিদ্ধান্তে পৌঁছান, অথবা ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েল।
/এআই