মহররমের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, ১৫ দিনের জন্য জিও নিউজের লাইসেন্স বাতিল করলো পাকিস্তান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
মহররম উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্কের জেরে পাকিস্তানের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, গত ২৬ জুন, মহররম উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে এমন কিছু ধর্মীয় দৃশ্যায়ন দেখানো হয়েছে, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে ওই বিষয়বস্তু ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছে সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জিও নিউজ। রোববার (২৮ জুন) দেয়া এক বিবৃতিতে চ্যানেলটি জানায়, বিতর্কিত ভিডিওটি অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রচার হয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই তাদের সম্পাদকীয় নীতি বা বিশ্বাসের প্রতিফলন নয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ভিডিও সব ডিজিটাল ও সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
জিও নিউজের দাবি, সম্প্রচারিত ফুটেজে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তুলে ধরা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি তুলে ধরা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ বা বিশ্বাসের প্রতি সমর্থন জানানো নয়।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জিও নিউজের সম্পাদকীয় সতর্কতার ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে চ্যানেলটিকে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাউন্সিল অব কমপ্লেইন্টস-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম সংবেদনশীল সময় মহররম। এ সময় ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সামান্য বিতর্কও পাকিস্তানে দ্রুত জনরোষের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের চিত্রায়ন দেশটিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতেও পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রকাশিত ব্যঙ্গচিত্রকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে মহররম উপলক্ষে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
প্রেস স্বাধীনতার প্রশ্নেও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছে পাকিস্তান। বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, সম্প্রচার স্থগিত এবং সম্প্রচার-সংক্রান্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।
/এআই