সমঝোতা না হওয়ায় শুক্রবারও চলবে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:১১ এএম
দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা (আইডিএফ) আংশিক প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে আবারও বৈঠকে বসবে দুই পক্ষ। খবর টাইমস অফ ইসরায়েলের।
ইসরায়েলের দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তৃতীয় দিনের আলোচনা শেষ হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। তবে উভয় পক্ষ শুক্রবার আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল, এই দফার বৈঠকে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সেই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা আংশিকভাবে সরে যাবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। যেসব এলাকায় এই দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোকে পাইলট জোন নামে অভিহিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের একটি সূত্র জানায়, এটি পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার নয়। কারণ আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননে তাদের ছয় মাইল গভীর বাফার জোন বজায় রাখবে। তারা শুধু সেই এলাকাগুলো ছাড়বে, যেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ সীমান্তবর্তী অনেক গ্রাম ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও হামলা চালাত। তাই কিছু গ্রাম পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রথম দুই দিন আলোচনা কঠিন হলেও বৃহস্পতিবার কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে, আলোচনার পঞ্চম দফায় অংশ নিতে গিয়ে ইসরায়েল ও লেবানন উভয় পক্ষই গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। ওই সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের দাবি, ওই সমঝোতা স্মারক তাদের সরাসরি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনা শুরু করেছিল মূলত লেবাননের বিষয়ে ইরানের প্রভাব সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে। এ কারণে ইসরায়েল আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেয় এবং খুব সীমিত এলাকা থেকে সেনা সরাতে রাজি হয়। অন্যদিকে, লেবাননও আরও বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়।
/এএন