×
Logo

আন্তর্জাতিক

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনীতিতে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে আইআরজিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনীতিতে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আইআরজিসি ইরানের অর্থনীতির বিস্তৃত খাতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। 

তেল ও গ্যাস, নির্মাণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, শিপিং, টেলিকমিউনিকেশন এবং অবকাঠামো খাতে তাদের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে, ইরানের অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ ও তেল রপ্তানি শুরু হতে পারে। 

তবে সেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় অংশই বিদ্যমান দেশীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে আইআরজিসির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।

ইরানের বিনিয়োগ কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো সাধারণত স্থানীয় অংশীদারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামোর কারণে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা গেটকিপারের ভূমিকায় চলে আসে।

আইআরজিসির অন্যতম প্রধান প্রকৌশল ও বাণিজ্যিক শাখা ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ ইতোমধ্যে শত শত বড় অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি টেলিকম, পরিবহন, পর্যটন এবং অটোমোবাইল খাতেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনীতিতে এই নেটওয়ার্ক আরও প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষকরে, তেল রফতানি পুনরায় বৃদ্ধি, পুনর্গঠন প্রকল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় শক্তিশালী অংশীদারের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে, যা আইআরজিসির অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে পারে।

তবে, এই পরিস্থিতি একই সঙ্গে নতুন আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতাও তৈরি করছে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো আইআরজিসিকে একটি নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার পরও এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করলে বিদেশি কোম্পানিগুলো আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি শুধু রাজনৈতিক সমাধান নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা আইআরজিসির প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

/এআই 

Logo