×
Logo

আন্তর্জাতিক

বিবিসি'র প্রতিবেদন

ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের ছেলে মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি দুইটি ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ২৯ বছর বয়সী হোয়াইবির বিরুদ্ধে আনা চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে আদালত দুটি প্রমাণিত বলে রায় দেয়।

ওসলো জেলা আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ বাকি দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিলেও, মামলায় আনা অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে মোট চার বছরের কারাদণ্ড দেয়।

রায় ঘোষণার সময় হোয়াইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীরা জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন।

 ঘোষিত রায়ে ২৯ বছর বয়সী হোয়াইবি দুটি ধর্ষণসহ মোট ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন, হুমকি প্রদান ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধসহ ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। 

মামলাটি নরওয়ের রাজপরিবারকে সরাসরি না জড়ালেও, এটি রাজপরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। হোয়াইবি রাজপরিবারের সদস্য নন। 

২০০১ সালে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সঙ্গে মেটে-মারিতের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তিনি নরওয়ের রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এবং কোনো রাজকীয় দায়িত্বও পালন করেন না।

রায় ঘোষণার পর তার আইনজীবীরা তাকে মুক্তির আবেদন জানান, যাতে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি রয়েছে, যাদের একজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় ছয়জন নারী জড়িত ছিলেন। আদালত দুইজন নারীর ক্ষেত্রে হোয়াইবিকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও, বাকি ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাগুম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে ওসলোতে পৃথক ঘটনায় দুই নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।

অন্যদিকে আরও কয়েকটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও সহিংস আচরণের প্রমাণও আদালতে উপস্থাপিত হয়।

যে দুই নারীকে নিয়ে অভিযোগ খারিজ হয়েছে, তাদের একজন ওসলোতে একটি হোটেলে এবং অন্যজন লোফোটেন দ্বীপে ভ্রমণের সময় ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল।

আদালত জানায়, অনেক ভুক্তভোগী ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন এবং পরবর্তীতে হোয়াইবির ফোনে পাওয়া ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাগুলো সামনে আসে।

এদিকে নরওয়ের এক অপরাধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, দেশে ধর্ষণ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড অনেক কঠোর হওয়ায় অনেক মামলা আদালতে টিকতে পারে না, যা বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের হতাশা তৈরি করছে।

/এআই 

Logo