×
Logo

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

আজই কি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তি?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

আজই কি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তি?

ফাইল ছবি

দীর্ঘ একশ' দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। এরমধ্যে হয়েছে যুদ্ধবিরতি ও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ। চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বহু প্রতীক্ষিত একটি শান্তিচুক্তি আজ রোববারই স্বাক্ষরিত হবে, গতকাল এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিচুক্তিটি আজ স্বাক্ষর হবে না। ফলে, দু'পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের জন্য দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।  

রোববার (১৪ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য জানিয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করা হয়েছে কারণ দু'দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। পরে শনিবার (১৩ জুন) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, চুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে এবং হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, রোববার অর্থাৎ আজ, 'চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই'। তবে তিনি এও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

একইসুরে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি।

আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি এবং ইলেকট্রনিক সাইনিংয়ের মাধ্যমে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। তিনি এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপন করবে।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনাধীন নথিতে মোট ১৪টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধারা হলো ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত বন্ধে পারস্পরিক অঙ্গীকার, লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, ভবিষ্যতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে পৃথক আলোচনার কাঠামো তৈরি।   

তবে দশকের পর দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সব পথ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, তেহরান বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই ইস্যুটি সমাধানের জন্য প্রথম ধাপের চুক্তির পর আরও ৬০ দিনের আলোচনা চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তেহরান চায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের ছাড়ের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। ফলে এ বিষয়গুলো এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

এদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। যুদ্ধের সময় ইরান এই কৌশলগত জলপথে চলাচল সীমিত করেছিল যার প্রভাব পড়েছিল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রণালি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। তবে ইরান বলছে, হরমুজ প্রনালি তাদের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ এবং ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম বা ফি আরোপের বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে চুক্তি রোববার-ই স্বাক্ষরিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই।  

/এওয়াইএ/এআই 

Logo