বিবিসি'র প্রতিবেদন
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার মাস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হয়েছেন ইলন মাস্ক। স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্সের প্রধান তিনি। শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
নিজের রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিটিকে শেয়ার বাজারে ছাড়ার প্রথম দিনেই বাজিমাত করেছেন তিনি।
পুঁজিবাজারে অভিষেকের প্রথম দিনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম এক লাফে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। আর এই রেকর্ড সাফল্যের ওপর ভর করে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এখন পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা এক লাখ কোটি ডলারের মালিক।
রকেট, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা 'স্পেসএক্স' নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এর সামগ্রিক বাজার মূল্যায়ন ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে তাদের প্রতি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সকালে বাজার খোলামাত্রই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। লেনদেন শুরু হতেই তা ১৫০ ডলারে পৌঁছায় এবং দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৬১.১১ ডলারে গিয়ে স্থির হয়।
রেনেসাঁ ক্যাপিটাল নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে আসার আগেই প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
প্রথম দিনের এই অভাবনীয় উত্থানে স্পেসএক্স মার্কিন শিল্পের দুই জায়ান্ট—ওয়ালমার্ট এবং জেনারেল মোটরস-এর সম্মিলিত বাজারমূল্যের চেয়েও বড় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’কেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৯ সালে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে আরামকো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল, স্পেসএক্স এখন সেই কোম্পানিকেও পেছনে ফেলে দিল।
বর্তমানে স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের ৪২ শতাংশ সরাসরি মালিকানা রয়েছে, যা কার্যত কোম্পানিটির সব সিদ্ধান্তে তাকে একক নিয়ন্ত্রণ দেয়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর মাস্ক দ্রুতই তা ছেড়ে দেন। '৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি এবং একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পরবর্তীতে পেপ্যালে পরিণত হয় এবং ২০০২ সালে ই-বে'র এর কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়।
তিনি সেই অর্থ বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে যা নাসার তুলনায় কম খরচে বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। একইসঙ্গে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন টেসলায়, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে প্রধান নির্বাহী হন।
/এআই