×
Logo

আন্তর্জাতিক

২য় বিশ্বযুদ্ধের ডি'ডে স্মরণ অনুষ্ঠানে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা হেগসেথের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

২য় বিশ্বযুদ্ধের ডি'ডে স্মরণ অনুষ্ঠানে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা হেগসেথের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক ডি-ডে অবতরণের ৮২তম বার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় ইউরোপের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর উপকূলে অভিবাসীদের আগমনকে আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রোববার (৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বক্তৃতায় হেগসেথ বলেন, দুঃখজনকভাবে আজ ইউরোপের বিভিন্ন সৈকত ভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক মতাদর্শের আক্রমণের মুখে পড়েছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার উপকূলে নৌকায় করে মানুষ আসছে। 

তিনি আরও বলেন, যারা এখানে যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছিলেন তারা ইউরোপে স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা বর্তমান প্রজন্মের নেতা ও যোদ্ধাদের দায়িত্ব। অন্যথায় তাদের আত্মত্যাগ সাময়িক অর্জনে পরিণত হবে।

১৯৪৪ সালের ৬ জুন মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডি অবতরণকে স্মরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হেগসেথ বলেন, ডি-ডেতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তারা ইউরোপে স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। তবে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের নেতাদের ওপরই পড়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তাদের অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে।

এর আগে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স যুক্তরাজ্যের এক তরুণ শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশকে দায়ী করে মন্তব্য করেন। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এ বক্তব্যের সমালোচনা করে জানায়, কোনো ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ইউরোপে সমুদ্রপথে অভিবাসনের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় যখন এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেন।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, গ্রিস, ইতালি, স্পেন ও সাইপ্রাসে সমুদ্রপথে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে আগতদের সংখ্যা মোটের প্রায় ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন ৯ হাজার ১৪২ জন। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম।

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে বলা হয় বর্তমান অভিবাসন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই দশকের মধ্যে ইউরোপের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেহারায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

অভ্যন্তরীণভাবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) হাজার হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে।

উল্লেখ্য, ডি-ডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমুদ্রপথে পরিচালিত সামরিক আক্রমণগুলোর একটি। একদিনেই প্রায় ১,৫৬,০০০ সৈন্য নরম্যান্ডিতে অবতরণ করেছিল। এর সাফল্য নাৎসি জার্মানির পতনের পথ তৈরি করে। অনেক ইতিহাসবিদ এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলোর একটি মনে করেন।

/এওয়াইএ/এআই


Logo